চোখের যত্ন……………

0
444

Eye the mail bd

কর্মব্যস্ত দিনে চোখে বেশি চাপ পড়ে।  কারণ, কখনো কম্পিউটারের সামনে, কখনো টেলিভিশনের সামনে বা কখনো মনোযোগ দিয়ে কিছু পড়া হয়।  এর মধ্যে চোখের বিশ্রামের কথা ভাবার অবকাশ হয় না।  এ ছাড়া চোখ সাজানোর জন্য কত কিছুই তো করা হয়।  কিন্তু বাড়ি ফিরে ভালোভাবে চোখ কি পরিষ্কার করা হয়?

রূপবিশেষজ্ঞ রা বলেন, একনাগাড়ে কাজ করা উচিত নয়।  বিশেষ করে কম্পিউটারে।  সম্ভব হলে ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর কিছুক্ষণ চোখ বুজে থাকুন।  তা না করলে চোখে লাল হয়ে যায়।  দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে।  এগুলো ছাড়াও চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়।  বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।  তবে প্রতিদিন যত্ন নিলে ছোট সমস্যাগুলো এড়ানো যায়।  অফিসে বা বাড়িতে বসেই এ যত্ন নিতে পারেন।

ওয়াটার প্রুফ মাশকারা ও আইলাইনার খুব প্রয়োজন না হলে ব্যবহার না করাই ভালো।  চোখের ভালো মানের কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করা উচিত।  কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।  কাজের চাপ বেশি থাকলে চোখে কয়েক মিনিট আইকভার দিয়ে রাখতে পারেন।  আইকভার না থাকলে নরম কাপড় দিয়ে চোখ ঢেকে রাখুন।  এ ছাড়া বাইরে থেকে ফিরেই চোখে বেশি করে পানির ঝাপটা দেওয়া উচিত।  এতে ধুলা-ময়লা সব পরিষ্কার হবে।

এবার চোখের মেকআপ।  তুলায় বেবি অয়েল বা অলিভ অয়েল নিয়ে ধীরে ধীরে মেকআপ তুলুন।  অনেকে অন্য কোনো প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার না করলেও নিয়মিত কাজল ব্যবহার করেন।  তাঁরা মনে করেন, এটি আবার তোলার কী আছে।  এটি ভুল ধারণা।  কাজলও ভালোভাবে তুলতে হবে।  অলিভ অয়েল বা বেবি অয়েল তুলায় নিয়ে কাজল তুলতে পারেন।

চোখের মেকআপ তোলার জন্য বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিকুইড পাওয়া যায়।  সেসবও ব্যবহার করতে পারেন।  চোখের নিচে কালো দাগ থাকলে আন্ডারআই ক্রিম ব্যবহার করুন।  চোখের ক্লান্তি কমাতে শসা বা আলুর রস তুলায় ভিজিয়ে চোখের ওপরে দিন।  কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।  কাঁচা দুধের মধ্যে তুলা ভিজিয়েও চোখের উওপরে ১০ মিনিট রাখতে পারেন।  ফ্রিজে রাখা ব্যবহূত টি-ব্যাগ চোখের চারপাশে ১০ মিনিট রেখে দিন।  দেখবেন নিমেষেই ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।

ছুটির দিনে বাড়িতে বসে চোখের উপযোগী প্যাক লাগাতে পারেন।  টমেটোর রস, মসুর ডাল, গুঁড়া দুধ, মধু ও তিলের তেল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করতে পারেন।  যাঁদের চোখ ফোলা থাকে, তাঁরা ত্রিফলার গুঁড়া, দুধ ও মধু মিশিয়ে হালকা করে মালিশ করুন।  এতে চোখের ফোলাভাব কমে যাবে।

চোখের উপযোগী ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত।  মাথা সোজা রেখে চোখ হাতের ডান থেকে বাঁয়ে ও বাঁ থেকে ডানে ১০ বার ঘোরাতে হবে।  প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন করা যেতে পারে।  রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন।  আর সানগ্লাস পরতে ভুলবেন না। সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।  চোখের ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতির সবুজ রঙের জুড়ি নেই।  একটু সময় পেলে সবুজে ঘেরা কোথা থেকে ঘুরে আসুন। মনও ভালো থাকবে, চোখও আরাম পাবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here