অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিঃ প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

0
2117

মোঃ আব্দুুল মান্নান মল্লিক,  সমাজ উন্নয়ন কর্মী, সাংবাদিক/ফটোসাংবাদিক ও কলাম লেখক।
‘সমসাময়িক কালে, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ শির্ষক প্রতিবেদনটি শুরুর পূর্বে আমাদের জানতে হবে যে, অপরাধ কি? অপরাধ সম্বন্ধে আমাদের সকলেরই একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। সাধারণতঃ দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করাকেই আমরা অপরাধ বলে থাকি। অপরাধ করলে আইন শাস্তির বিধান করে। অপরাধ সম্পর্কে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন, যে সকল কাজ করলে সমাজের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উহাই অপরাধ। বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানী তাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সজ্ঞা নিরূপণ করেছেন। সমাজ বিজ্ঞানী কারাভব অপরাধের সজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “যে সকল কাজ বা ভূল যা সমাজ বিরুদ্ধাচরণ বলে মনে করে এবং যা না করলে বা করলে সমাজের মাঝে শাস্তি পেতে হয়” এক কথায় তাই অপরাধ। অধ্যাপক জিনিল বলেন, “কোন গোষ্ঠীর যদি নিজেদের কাজ করার শক্তি থাকে, তখন তারা যদি এমন কাজ করে যা সমাজের পক্ষে হিতকর নয় এবং যা দ্বারা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সে কাজকে অপরাধ বলে।”

Untitled-1

উপরোক্ত সজ্ঞা থেকে বুঝা যায় যে, অপরাধ সমাজের একটা অবৈধ কাজ যা সমাজের সংহতি ও রীতি নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধের অর্থ হলো, নির্দিষ্ট প্রথা বা জনমত লংঘন করা। মোট কথা অপরাধ অর্থ- সামাজিক দুর্নীতি বা সমাজ বিরোধী কাজ তা বাদে সমাজের অবশ্য পালনীয় কাজকে লংঘন করলেও অপরাধী হতে হয়। প্রকৃতপক্ষে অপরাধ মানে সামাজিক শৃঙ্খলার বিপরীত কাজ। সামাজিক পরিবেশের মাঝেই অপরাধ দেখা যায়, জন-মানবহীন পরিবেশে অপরাধ নেই। সবশেষে উপসংহারে একথা বলা যায় যে, সামাজিক কার্যাবলীর বিধি নিষেধ লংঘন করাই হলো অপরাধ।

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই সমাজ জটিলতর হচ্ছে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলোই সংঘর্ষমূলক হবার ফলে অপরাধ প্রবণতার সৃষ্টি হচ্ছে। আদিকালে অপরাধ কম ছিল। মানুষের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে নানা রকম সমস্যারও সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত হারে। বিভিন্ন কারণে অপরাধের ঘটনা ঘটে থাকে। অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে নিম্ন লিখিত কারণগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ- (১) পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, (২) ব্যক্তির দৈহিক ও মানষিক অবস্থা, (৩) বংশগত ধারা, (৪) অর্থনৈতিক অবস্থা, (৫) সামাজিক অবস্থা ইত্যদি। অপরাধ তত্ত্বে¡র জনক কেমারলম ব্রোসো মনে করেণ যে, “মানুষের দৈহিক ও মানষিক অবস্থাই অপরাধের মূল কারণ।”

এবার আসা যাক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কিত প্রতিবেদনের বিস্তারিত আলোনায়। উপরোক্ত কারণগুলোই মূলতঃ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম ও প্রধান কারণ। তবে সামাজিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক অবস্থায়ই অপরাধ সংঘটনের জন্য সর্বাধিক দায়ী। ভৌেিগালিক অবস্থা, জলবায়ু, আবহাওয়া প্রভৃতি প্রাকৃতিক অবস্থাকে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বলে। পারিপার্শ্বিকতার ব্যবধানে অপরাধের ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। সমতল ভূমিতে যে রূপ নারী অপহরণ ও বলাৎকার সচরাচর দেখা যায়, কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে তা সে রূপ দেখা যায় না। শীত প্রধান দেশে লোকজনের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বচ্ছল থাকে না। ফলে শীত প্রধান দেশে টাকা পয়সা ও ধন সম্পত্তির জন্য অপরাধ সংঘটিত হয়। আবার গ্রীষ্ম প্রধান দেশে লোকজনের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি স্বচ্ছল থাকে। ফলে গ্রীষ্ম প্রধান দেশে ব্যক্তির সাথে ব্যাক্তির মেলা মেশা বেশি হয়ে থাকে। ফলশ্রুতীতে গ্রীষ্ম প্রধান দেশে পারস্পারিক সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রকার ঘটনা ঘটে থাকে।

অপরাধ প্রবণতা কতকগুলো দৈহিক ও মানসিক উপাদানের সাথে জড়িত। মানসিক অবস্থার পরিপেক্ষিতে অনেকে দৈহিক ভোগের জন্য বলাৎকার করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ আবেগ প্রবণ হয়ে থাকে। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে ভাল মন্দ জ্ঞান হারিয়ে অপরাধে লিপ্ত হয়ে থাকে। দুর্বলচিত্তের লোকেরা বেশি অপরাধ প্রবণ হয়ে থাকে। কারণ তারা সমাজের লোকদের সাথে মেলামেশা করতে সঙ্কোচবোধ করে। মস্তিস্কে কোন দোষ থাকলে মানুষ বিাবহ প্রিয় ও মামলাবাজ হয়ে থাকে মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আবেগজনিত অসাধ্যের কারণে যে সকল লোক যৌবনে অশান্তি ভোগ করে, পরবর্তীকালে তারা অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি চরিত্র-বিকাশ, আচার-আচারণ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, পিতা-মাতার প্রভাব থেকে গড়ে উঠে। পিতা-মাতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সন্তান-সন্ততিদের মধ্যেও সমাজ বিরোধী মনোভাবের বিকাশ ঘটে। পিতা-মাতা মাতাল, নৈতিক চরিত্রহীন, মৃগীরোগী, পাগল অথবা দুর্বল চিত্তের হলে স্বাভাবিকভাবে তাদের সন্তান-সন্ততিরাও অপরাধ প্রবণ হয়। স্নায়ুবিক দুর্বল, অলসতা ও অন্যান্য মানসিক কারণগুলো বংশানুক্রমিক। ব্যক্তিত্ত্বের পূর্ণ বিকাশের পথে এগুলো মারাত্মক প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

অপরাধ হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলার বিপরীত কার্য। সামাজিক পরিবেশের সাথে অপরাধ প্রবণতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সামাজিক পরিবেশে যদি অপরাধ প্রবণতা বজায় থাকে তা সুষ্ঠু ব্যক্তি চরিত্রকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তি-চরিত্র বিকাশে এবং তার আচার-ব্যবহার সংশোধনে সমাজের প্রভাব অপরিসীম। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী। বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থা পুঁজিবাদী। সমাজের তথা দেশের সমস্ত সম্পদ গুটিকয়েক ব্যক্তি/পরিবারের হাতে পঞ্জিভূত। অন্য অধিকাংশ মানুষ সম্পদহীন। এ অবস্থায় তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়।

বেকারত্ব বাংলাদেশে যুব সম্প্রদায়ের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একটি যুবক শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যাই হোক না কেন তার সমাজে মান-মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে হলে, পরিবারকে সাহায্য করতে হলে, নতুন সংসার গড়তে হলে উপযুক্ত কর্মের/অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু দেশের প্রচলিত আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে অধিকাংশ যুবক বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাঁচার তাগিদে মান-মর্যাদা তথা নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অনেক সময় এমন অনেক বেকার যুবক নানা প্রকার অপরাধ চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

দারিদ্র্যতা বাংলাদেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য অন্যতম একটি কারণ। কারণ পেটে ভাত না থাকলে মানুষ আত্মমর্যাদার দিকে চেয়ে বসে থাকতে পারে না। আমাদের দেশে শতকরা প্রায় ৮০/৮৫ জন লোকই দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তারা তাদের ন্যূনতম চাহিদাও মেটাতে পারে না। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় ক্ষুধার জ্বালায় তারা ছোট-খাটো অনেক অপরাধ যেমন-চুরি, পকেটমার, ছিনতাই, ঠকবাজি ইত্যাদি অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্নও আমাদের দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য একটি কারণ হিসেবে কাজ করে। পূর্বেই বলেছি আমাদের দেশ পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশসমূহের অন্যতম। এখানে অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। সুতরাং জীবন সম্পর্কে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখে সেটা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে না পেরে অপরাধের পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে বর্তমানে বিভিন্ন পাশ্চাত্য উন্নত দেশের জীবন-যাত্রা ও তাদের ফ্যাশনের প্রতি আমাদের দেশের একশ্রেণীর লোকের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তারা প্রাশ্চাত্যের অনুরূপ নিজেদের জীবনটাও চালাতে চায়। কিন্তু অর্থ সংগ্রহ করা সবার পক্ষে সম্ভবপর না হওয়ায় অনেকেই অনেক অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেক চাকরিজীবী অসৎ পথে টাকা উপার্জনের জন্য দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে, আবার অনেকে অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেয়। যা পরবর্তীতে অপরাধে রূপান্তরিত হয়।

রাজনৈতিক কারণে বর্তমানে আমাদের দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপক হারে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবং রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অনেকে যখন ব্যক্তিগত স্বার্থ-চরিতার্থ করতে চান তখন রাজনীতিতে অপরাধ প্রবণতা দ্রুতহারে সংক্রমিত হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রথায় বা সুষ্ঠু নিয়মের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই অনেক দাগী আসামী তথা অপরাধী কোন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করতে থাকে।

নৈতিক শিক্ষার অধঃপতনের জন্যও সমাজে তথা দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক শিক্ষার নামে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি অবহেলার কারণে মানুষের মাঝে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে যা এক সময় তাদেরকে অপরাধ করতে সাহায্য করছে।

অশ্লীল ছায়াছবি, অশ্লীল আড্ডা, গল্পগুজব, গণমাধ্যমে অশ্লীল বিজ্ঞাপন, ভিসিয়ার/ভিসিডি/ভিসিপি, ফেসবুক, ইন্টারনেট, ডিস এন্টেনা গান-বাজনা ও অশ্লীল পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি যুব সমাজকে প্রভাবিত করে। দেশের সমস্ত এলাকার তথা শহর এলাকার যুবক-যুবতীরা এই অশ্লীলতায় পতিত হয়, অশ্লীলতা যুবক-যুবতীর মধ্যে অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।

উপরোক্ত কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তবে উপরে উল্লেখিত কারণগুলোই মূলতঃ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে একাধিক কারণে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমসাময়িক কালে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে দেশবাসী তথা বর্তমান সরকার বেশ ভালভাবেই অবগত আছেন। নির্বাচনের পূর্বে ও পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারী দলের সকলেই অপরাধ প্রবণতা বন্ধের জন্য তথা উপরোক্ত সমস্যার সমাধান কল্পে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২ বছর গত হতে চলল বর্তমানে সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তাদের দেওয়া ওয়াদার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। অপরাধ প্রবণতা বন্ধের নিমিত্তে সরকার এ পর্যন্ত কোন বাস্তবভিত্তিক কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে হয় না। গত কয়েক দিনে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সকল খুনের কোন প্রকৃত তথ্য উৎঘাটন কিংবা খুনিকে গ্রেপতার করতে পারে নাই পুলিশ তথা সরকার।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পেরিয়ে আজ স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে তথা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটা অবনতি হবে তা পূর্বেও কেও কোনদিন কল্পনা করেছে বলে মনে হয় না। চুরি, ডাকাতি, খুন-জখম, ছিনতাই রাহাজানি, নারী অপহরণ, নারী ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচার, অস্ত্রবাজী, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা তথা অপরাধমূলক ঘটনা বা কাজ যেন নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় এসব অপরাধ সংঘঠিত হয়ে আসছে। দিন দিন অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। কমার কোন লক্ষণ নেই। পেপার-পত্রিকা খুললেই এসব অপরাধমূলক ঘটনার খবর অহরহ চোখে পড়ে।

অনেক অপরাধমূলক ঘটনা বা কাজ এই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে সংঘটিত হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রতিমুহুর্তে অহরহ ঘটেই চলেছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই অপরাধমূলক ঘটনা বা কাজ সংঘটনের জন্য অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে মনে হয় না। উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান কল্পে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। অপরাধমূলক ঘটনা তথা কাজ সংঘটনের জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে সরকার যদি যথাযধ পদক্ষেপ গ্রহণ ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ করত তাহলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি বহুলাংশে কমে যেত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here