গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে দৈনিক সমকাল ও রাইজিংবিডি ডটকমের জেলা প্রতিনিধি মাসুম লুমেন-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অলিভ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য শহরের সাবেক অফিসার্স কোয়ার্টার মাঠে আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় যান সাংবাদিক মাসুম লুমেন। সাথে ছিলেন ৭১ টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট তাজরুল ইসলাম। বক্তব্য গ্রহণ ও ছবি ধারণ শেষে ফেরার পথে মেলার মূল ফটকে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুম লুমেন অভিযোগ করে বলেন:”মেলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অলিভ ও তার সঙ্গীরা আমার ওপর হামলা চালায়।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা বা হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। হামলার ঘটনার পর পরই তৎপর হয় পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে গাইবান্ধা শহরের বিহারি পট্টি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে অভিযুক্ত অলিভকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:”সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে অলিভকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”সাংবাদিক সমাজের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদসাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন:শাহাবুদ্দিন তোতা (সাংবাদিক, প্রথম আলো): ”সাংবাদিকরা জনস্বার্থে তথ্য তুলে ধরতে কাজ করেন, কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিবাদ জানানোর আইনসম্মত পথ রয়েছে; কিন্তু হামলা চালিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।”
”সাংবাদিকরা জনস্বার্থে তথ্য তুলে ধরতে কাজ করেন, কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিবাদ জানানোর আইনসম্মত পথ রয়েছে; কিন্তু হামলা চালিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।” বিপ্লব ইসলাম (রিপোর্টার, সময় টেলিভিশন): ”সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো সাংবাদিক হামলা বা ভয়ভীতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
”সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো সাংবাদিক হামলা বা ভয়ভীতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” জাভেদ হোসেন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা প্রেসক্লাব): ”সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত হানার এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
”সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত হানার এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই। “সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে হামলায় জড়িত সকল অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


