নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক এক নীরব ঘাতক, যা তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে। সমাজের অবক্ষয় রোধে ও মাদকের বিস্তার রুখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বনাশা হেরোইন ও ইয়াবার চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এক তরুণকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে তাদের কাছে গোপন সংবাদ আসে, ঠাকুরাকোণা এলাকার একটি বাড়িতে মাদকের বেচাকেনা চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কালক্ষেপণ না করে অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম তাৎক্ষণিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রাত ৮টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত- পুরো এক ঘণ্টা ধরে আসামিদের নিজস্ব দখলীভুক্ত পূর্ব দুয়ারি তিন কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বসতঘরে ঝটিকা তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির এক পর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা মাদকের চালানটি উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ছিল একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের কৌটায় সযত্নে রাখা সাদা কাগজে মোড়ানো ৩৫টি হেরোইনের পুড়িয়া। প্রতি পাঁচ পুড়িয়া এক গ্রাম হিসেবে সাত গ্রাম হেরোইন সেখানে পাওয়া যায়।
এর পাশাপাশি একটি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিন প্যাকেট থেকে উদ্ধার করা হয় ১২০ পিস কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট। জব্দকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ১২ গ্রাম। সংস্থাটির প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এসব হেরোইন ও ইয়াবার বর্তমান অবৈধ বাজারমূল্য আনুমানিক ৬৫ হাজার পাঁচশো টাকা।
এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মো. বিল্লাল মিয়া (২৫) নামের এক তরুণকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। সে ঠাকুরাকোণা এলাকার সুলতান মিয়া ও মোসা. রাবিয়া আক্তারের ছেলে। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অপর এক নারী আসামি সুকৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক নারীর নাম মোসা. রাবিয়া আক্তার (৪৪)। তিনি একই এলাকার মৃত নবী হোসেন ও মোসা. সালেমা আক্তারের মেয়ে এবং মো. রতন মিয়ার স্ত্রী।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত বিল্লাল মিয়া ও পলাতক রাবিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করছেন।


