নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাসির ইসলামের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেত্রকোনার পূর্বধলা। হামলার প্রতিবাদে ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগেবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখ সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এ কর্মসূচিতে ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, টেকনিশিয়ান, মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। এ সময় তারা চিকিৎসকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কর্মস্থলে আজ তাঁদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে, যা চরম উদ্বেগজনক। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডা. মো. নাসির ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
সমাবেশে বক্তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন- “স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ ধরনের অপরাধকে ‘জামিন অযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। শরীয়তপুরের ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এমন সাহস না পায়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বিশ্ব প্রিয় মজুমদার, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন ডা. নাজমুল হুদা, মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিলা ও ডা. মাইশা, সিনিয়র স্টাফ নার্স হ্যাপি ও রুমা ও হেড ক্লার্ক মুন্নাবীন।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক মতিউর রহমান, স্টোর কিপার মোস্তাক আহমেদ ও নার্সিং ইনচার্জ সাধনা রানীসহ পূর্বধলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এবং এ হামলার সুষ্ঠু বিচার না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।


