রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক দমকা ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে হওয়া এ দুর্যোগে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টার পর হঠাৎ করে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র ঝড়ে রূপ নেয়। এর সঙ্গে যোগ হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি, যা পুরো উপজেলায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিটি শিলার আকার অস্বাভাবিক বড় ছিল, যা ফসল ও গাছপালার ওপর মারাত্মক আঘাত হানে।
উপজেলার গয়াবাড়ি, বালাপাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম ছাতনাই, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা, টেপাখড়িবাড়ি ও খগাখড়িবাড়িসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এ দুর্যোগের প্রভাব পড়ে। এতে ফসলের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং বিভিন্ন শাকসবজি রয়েছে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিলাবৃষ্টির কারণে আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়েছে। এছাড়া গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু ও কাঁচামরিচের খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, কয়েক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক রাতের ঝড়েই তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন নাউতারা ও সদর ইউনিয়নের আরও কয়েকজন কৃষক।
এদিকে, উপজেলার একটি নার্সারির মালিক বলেন, তার চারা গাছের বড় অংশই শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এ এলাকায় দেখা যায়নি। অনেক বাড়ির টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।
দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এজন্য দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠেছে।
