নিজস্ব প্রতিবেদক: গত অক্টোবর মাসজুড়ে নেত্রকোনা সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও কড়া নজরদারি চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে গত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিওপিগুলো (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব ধারাবাহিক অভিযানে জব্দ করা হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ২১৬ টাকা সমমূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিচিত্র সব চোরাচালানি পণ্য।
কেবল পণ্য উদ্ধারই নয়, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ও মানব পাচার রোধেও কঠোর অবস্থানে ছিল বিজিবি। গত এক মাসে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অপরাধে একজন মানব পাচারকারী এবং দুইজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন বিজিবির সদস্যরা। আটকের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত পণ্যের তালিকাটি বেশ দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়, যা থেকে স্পষ্ট যে চোরাকারবারীরা প্রসাধন সামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য- সবই পাচারের চেষ্টা করেছিল।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় উদ্ধার করা হয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪৫৭ বোতল ভারতীয় মদ। এছাড়া গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ২৬টি ভারতীয় গরু। আসন্ন শীতকে কেন্দ্র করে পাচারের চেষ্টাকালে জব্দ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ৫৩৩টি ভারতীয় কম্বল।
চোরাচালানের তালিকায় আরও ছিল ৩৫ লাখ ৩৫,১৭০ টাকা মূল্যের ১৮ হাজার ১৮৮.৫ কেজি ভারতীয় কয়লা এবং ৫ লাখ ৩২,৬০০ টাকার ১১,৯০০টি বাঁশ। গৃহস্থালি ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে ৯১০২টি ভারতীয় কসমেটিকস, ১২১৯ কেজি ভারতীয় চিনি, ৬০ কেজি ভারতীয় লেবু, ১১৩ কেজি ভারতীয় ফুচকা, ৬৯ প্যাকেট ভারতীয় শোনপাপড়ি, ১৭৮ প্যাকেট ভারতীয় চকলেট, ৭০০ কেজি ভারতীয় টমেটো, ৩৪ প্যাকেট ভারতীয় বিস্কুট এবং ২৯ কেজি ভারতীয় জিরা।
শুধু ভারতীয় পণ্যই নয়, পাচারকালে ২ লাখ ৯৬,৩২০ টাকার ২০৯৬ কেজি বাংলাদেশী রসুন ও ৯০,২০০ টাকার ২৬৭ কেজি বাংলাদেশী মাছও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষিকাজে ব্যবহৃত ১৬ পিস ভারতীয় কোদাল, ৩৮০ পাতা বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, এক লাখ টাকা মূল্যের একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল এবং ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ঠেলাগাড়িও রয়েছে জব্দের তালিকায়।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আটককৃত ভারতীয় মদ নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অন্যান্য সমস্ত চোরাচালানি মালামাল নেত্রকোনা কাস্টমস্ অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ও মাসব্যাপী অভিযানগুলোর বিষয়ে ৩১ বিজিবি’এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, বিজিবি কর্তৃক আটককৃত সিজারের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত অপারেশন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ টহল কার্যক্রম ইতোমধ্যে আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন।
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, বিজিবির এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশেই কমে আসবে।


