নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ার কারণে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় প্রায়শই চোরাকারবারিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে এবার আইনের প্রহরীদের সতর্ক দৃষ্টির কাছে হার মানতে হলো তাদের। রাতের আঁধারে বাসে করে এবং স্কুল ব্যাগে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় মদের চালান। পুলিশের অভিযানে সেই চালান তো জব্দ হয়েছেই, সেই সঙ্গে ধরা পড়েছে পাচার চক্রের দুই সদস্য।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের তাদেরকে আজ দুপুরের দিকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৯টা ৪৫ মিনিট। কলমাকান্দা থানায় তখন নৈশকালীন টহল ডিউটি চলছিল। ঠিক তখনই পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে। খবর মেলে, রংছাতি ইউনিয়ন এলাকা থেকে ‘মায়ের আঁচল’ নামক বাসে করে ভারতীয় মদের চালান কলমাকান্দা বাজারের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।
কালক্ষেপণ না করে কলমাকান্দা থানার এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে কলমাকান্দা বাজারের রেন্ট্রিতলাস্থ মায়ের আঁচল বাস কাউন্টারের সামনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (২২) নামের যুবককে আটক করে পুলিশ।
জাকির কলমাকান্দার রংছাতি এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। জাকিরের কাঁধে থাকা কালো রঙের স্কুল ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ উদ্ধার করে ৭৫০ মি.লি. ওজনের আট বোতল ‘এসি ব্ল্যাক পিওর গ্রেইন ডিলাক্স হুইস্কি’ ব্র্যান্ডের মদ। প্রতিটি মদের বোতলের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা করে, যার মূল্য ২৪ হাজার টাকা।
জাকিরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সে স্বীকার করে, চোরাচালানের সাথে একই এলাকার মো. সুমন মিয়া (২৬) এবং পলাতক আসামি সারোয়ার হোসেন (৩১) জড়িত রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় এসব মদ সারোয়ারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া।
এ তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই পুলিশ রংছাতি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়ায় পলাতক আসামি সারোয়ার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সারোয়ার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর আটককৃত জাকিরের দেখানো মতে, রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সারোয়ারের বসতঘরের পেছনের ধানক্ষেত থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। সেই বস্তার ভেতর থেকে মেলে ৩৭৫ মি.লি. মাপের আরও ২৪ বোতল একই ব্র্যান্ডের (এসি ব্ল্যাক) ভারতীয় মদ। যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য দুই হাজার টাকা করে ৪৮ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে চোরাকারবারি চক্রের অন্যতম সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সুমন মিয়া স্থানীয় মৃত শেফালী আক্তার ও বুলবুল আহমেদের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সহায়তায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে মদ এনে বাংলাদেশে বিক্রি করে আসছিল। সব মিলিয়ে ওই রাতের অভিযানে ৩২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭২ হাজার টাকা।
ওসি মো. সোহেল রানা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে এবং পলাতক আসামি সারোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


