নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে নেত্রকোনার মদন থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক কারবার, শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পাঁচ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এলাকায় নাশকতা বা ডাকাতির মতো বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন জমির হোসেন (৩৫) নামের এক যুবক। তিনি উপজেলার ২নং চানগাঁও ইউনিয়নের মৈধাম গ্রামের সবুজ মিয়া ও মদিনা আক্তারের ছেলে। গত ১৮ অক্টোবর দায়ের করা ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে পৃথক একটি অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চানগাঁও শাহাপুর এলাকার রবিউল ইসলামের স্ত্রী ছাবিনা আক্তার (২০) এবং চানগাঁও আলিয়াপুর পশ্চিমপাড়ার মো. মগল মিয়ার ছেলে মো. আয়াতুল ইসলাম (৩৬)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মধ্যরাতে (০০.০৫ ঘটিকা) তাদের আটকের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মদন থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
জনজীবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে জিলানী (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি চানগাঁও আলীয়াপুর এলাকার আ. ছাত্তার ও সুফিয়া বেগমের ছেলে। বৃহস্পতিবার পুলিশের কাজে বাধা ও শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পারিবারিক আদালত আইনেসাজাপ্রাপ্ত এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. রিপন মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কদমশ্রী (সিমেরহাটি) গ্রামের আ. আজিজের ছেলে। সহকারী জজ আদালত (মদন, নেত্রকোনা) থেকে গত ৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় থানা এলাকায় নিয়মিত টহল, ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”


