18:50:45নিজের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ভিডিও; সম্মানহানি ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের সুযোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তারকাদের ছবি, কণ্ঠ ও চেহারা ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়া ভিডিও। এসব ভিডিওতে কাউকে এমন কথা বলতে বা এমন কাজ করতে দেখা যায়, যা বাস্তবে তিনি করেননি। কখনো বিনোদনের নামে, আবার কখনো হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আসল ভিডিও ও এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওর পার্থক্য সাধারণ দর্শকের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পরিচয় জালিয়াতি, অপপ্রচার ও ডিজিটাল হয়রানির ঝুঁকিতে পড়ছেন।
কীভাবে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংক, স্ক্রিনশট, অ্যাকাউন্টের পরিচিতি ও প্রকাশের সময় সংরক্ষণ করা জরুরি। এরপর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য, হয়রানি কিংবা পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ জানানো যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন ও সেক্সটর্শনের উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রকাশ, প্রচার কিংবা প্রকাশের হুমকিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। তবে সব ধরনের এআই-নির্মিত বা ভুয়া ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারার আওতায় পড়ে না; ঘটনার ধরন ও আইনের শর্ত বিবেচনা করতে হয়।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজন সচেতনতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওর বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে ভিডিও শেয়ার না করা, মূল উৎস পরীক্ষা করা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত রিপোর্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এআই প্রযুক্তি সৃজনশীল কাজের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর অপব্যবহার ব্যক্তির সুনাম, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করার পাশাপাশি অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।


