নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা স্টেশন রোড। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত এই পথ দিয়ে। সড়কের দুপাশের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরেই চলে গিয়েছিল অবৈধ দখলদারদের কব্জায়। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের অধিকার কেড়ে নিয়ে সেখানে বসেছিল সারি সারি দোকান। যানজট আর মানুষের ভিড়ে পথে হাঁটাই যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে এবং শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে স্টেশন রোডে স্বস্তিদায়ক দৃশ্য দেখতে পান স্থানীয়রা। ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকানের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকটি দোকানের মালামাল জব্দ করা হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুটপাত দখল করে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। এর আগে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে একাধিকবার ফুটপাত থেকে এসব অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দোকানিদের মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি কয়েকজনকে জরিমানার আওতায়ও আনা হয়। তাতেও টনক নড়েনি দখলদারদের। প্রশাসনের নজরদারি একটু শিথিল হলেই পুনরায় ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসতেন তারা। বারবার সতর্ক করার পরও দখলদাররা কর্ণপাত না করায় যানজট কমানো ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
দুপুরের উচ্ছেদ অভিযানের পর বিকেলে শুরু হয় ব্যতিক্রমী আরেক পর্ব। জব্দকৃত মালামাল নিয়ে আসা হয় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মোহনগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের নিলাম সংক্রান্ত তালিকা ধরে প্রকাশ্য নিলামে তোলা হয় এসব জিনিসপত্র।
জব্দ করা মালামালের তালিকায় ছিল সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য নানা সামগ্রী। এর মধ্যে পান-সুপারির ডালি, বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, প্লাস্টিকের র্যাক ও চেয়ার, শিশুদের খাট ও টেবিল, বালতি, ট্রে, মাদুরসহ হরেক রকমের প্লাস্টিক সামগ্রী উল্লেখযোগ্য। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সামনে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিলাম সম্পন্ন হয়। সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হয় জব্দ করা এসব মালামাল।
এ অভিযান কেবল ফুটপাত পরিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অবৈধ দখলদারদের জন্য কড়া বার্তাও বটে। উচ্ছেদ অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন জানান, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মোহনগঞ্জের সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে স্টেশন রোডসহ পুরো শহরের ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।


