রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
সন্ধ্যা নামতেই পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তে থাকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা। ঢাকের শব্দ, পূজার আনুষ্ঠানিকতা আর উৎসবের আমেজের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির, বড় হরিসভা পাড়া ও ঝুমঝুম পাড়াসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা, পূজার সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে বিজিবির সদস্যদের তৎপরতা ও নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব পায় এ পরিদর্শনে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১১টি পূজামণ্ডপ রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর থানারহাট কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় চার প্লাটুনে মোট ১২০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত টহল, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে থানারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এসআইপি সিপাহি শিব্বির আহম্মদ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫১ বিজিবি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজার সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপের সভাপতি শ্রী কনাই লাল কর্মকার বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আমাদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা বাড়িয়েছে। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন করুক। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা এবং স্থানীয় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতায় ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ অটুট থাকবে। উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপত্তার উদ্বেগে ম্লান না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরই জোর দিচ্ছেন তাঁরা।


