যশোর প্রতিনিধিঃ
সহিংসতার বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিতা দৃশ্যমান কর,শিশু,নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিতের দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে চারটায় যশোরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আহ্বায়ক এ্যাড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী বীথিকা সরকার, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এ্যাড. আবুল কায়েস, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধরণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, পুজা পরিষদের যশোর জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃনাল কান্তি দে, সনাতন ধর্ম সংঘ নেতা গোপি কান্ত সরকার, মহিলা পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. কামরুন নাহার কণা, গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান, অধিকার কর্মী সুমন রুবাইদুল, নাগরিক উদ্যোগের যশোরের সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন, অধিকার কর্মী নিলাসা নীল, সামাজ্যবাদ বিরোধী মঞ্চের খবির শিকদার। বক্তারা বলেন, হত্যা, নিখোঁজ, রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন কিংবা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।
রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দল-মত-পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতাকে শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যাবে না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, দুর্নীতি, লুটপাট, বৈষম্য এবং জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সংকটকে জটিল করে তুলছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ব্যবহার করে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও চাপের বাইরে নয়।
তাই জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামকে সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও দাঁড় করাতে হবে। আমরা মনে করি, কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি দেশের অভ্যন্তরে জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক নিপীড়নও গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করবে—এটাই আমাদের অবস্থান। শিশু, নারী, শ্রমিক, কৃষক, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু—সমাজের কোনো অংশই যেন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে।
সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে জনগণকে বিভক্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলা হবে।সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যই হতে পারে আমাদের শক্তি।
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মঞ্চ, যশোরের পক্ষ থেকে ১. হত্যা, নিখোঁজ ও সকল রাজনৈতিক- সামাজিক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত, ২. শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, ৩. ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত,৪. সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা,৫. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত,৬. দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সকল সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য গড়ে তুলার আহ্বান জানান।


