নিজস্ব প্রতিবেদক: “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা”- সময়োপযোগী এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা গ্রামে দিনব্যাপী ‘কম্পোস্ট সার তৈরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এর সহযোগিতায় রবিবার (১৯ জুলাই) এই পরিবেশবান্ধব কৃষি কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ফচিকা গ্রামের শিক্ষক জিন্নাতুন ইসলামের ‘শতবাড়ি’-তে আয়োজিত এ কর্মশালায় স্থানীয় তিনটি ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের ২০ জন ‘শতবাড়ী’ ও ‘এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার’ এর প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী নিবিড় এই প্রশিক্ষণে মদনপুর, কুতুবপুর, মৌজেবালি, চল্লিশা, কাইলাটি, বটতলা, ফচিকা ও দরুনবালি গ্রামের উৎসাহী কৃষক-কৃষাণীরা অংশ নেন। সকালে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আয়োজক ও শিক্ষক জিন্নাতুন ইসলাম।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক ও সম্পদ ব্যক্তি (রিসোর্স পারসন) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চল্লিশা গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষাণী আম্বিয়া আক্তার। তিনি অংশগ্রহণকারী কৃষকদের কম্পোস্ট সার তৈরির বিভিন্ন আধুনিক ও দেশীয় পদ্ধতি, সঠিক উপাদানের মিশ্রণ এবং এর ব্যবহারবিধি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। পাশাপাশি উপস্থিত কৃষক-কৃষাণীরা কৃষিকাজে তাদের নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে উন্মুক্তভাবে বিনিময় করেন।
রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের গুরুত্ব তুলে ধরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষাণী মমতা বেগম বলেন, “আমরা নিজেদের বাড়িতেই প্রাকৃতিকভাবে গোবর সংরক্ষণ করে কুইক কম্পোস্ট তৈরি করতে পারি। আমাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জমির মাটির স্বাস্থ্য বাঁচিয়ে রাখা এবং সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাড়িতে কম্পোস্ট সার তৈরি করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল কৃষক-কৃষাণী ভবিষ্যৎ কৃষিকাজে রাসায়নিক কীটনাশক ও ক্ষতিকর সারের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে একসাথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে কর্মশালার শেষাংশে অংশগ্রহণকারী ২০ জন কৃষক-কৃষাণীর প্রত্যেককে একটি করে ২০টি নিম গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এই নিম গাছ ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য জৈব বালাইনাশক তৈরির অন্যতম উপকরণ এবং উপকারী ঔষধি গাছ হিসেবে কাজে লাগবে।


