নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা পৌরশহরকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পথচারীবান্ধব করার লক্ষ্যে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে তিনি সচেতনতামূলক ফুটপাত অপসারণ অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিন রাতে পৌর প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজা সশরীরে পায়ে হেঁটে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তার পরিদর্শনের আওতায় ছিল শহরের ছোট বাজার, বড় বাজার, মেছুয়া বাজার এলাকা। এছাড়া কালেক্টরেট স্কুলের সামনের রাস্তা এবং গার্লস স্কুলের পাশের গলির ফুটপাত ও ড্রেনের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দখলগুলোও তিনি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, অনেক ব্যবসায়ী তাদের নির্ধারিত দোকানের সীমানা পেরিয়ে ড্রেন ও রাস্তার ওপর শোকেস, ফলের পসরা ও অন্যান্য মালামাল সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে রাস্তা, সাধারণ পথচারীদের চলাচলে ঘটছে চরম বিঘ্ন। পৌর প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তার ওপর থাকা এসব অবৈধ মালামাল, শোকেস ও টুল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযানকালে প্রশাসক অত্যন্ত কঠোর অথচ সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজে এবং তার স্টাফরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দখলদারদের সতর্ক করেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আজ কেবল মৌখিকভাবে বোঝানো ও সতর্ক করা হচ্ছে। তবে পরদিন (বুধবার) থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (অ্যাকশন) গ্রহণ করা হবে।
ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে ইজারা প্রদান এবং ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন মুন মুন জাহান লিজা। তবে প্রকৃত ও অসহায় হকারদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তিনি জানান, তাদের ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হবে না। হকারদের জীবনজীবিকা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বাজারের ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট খালি জায়গায় তাদের বসার বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়ে পৌর প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, “কেবল একদিনের অভিযানে ফুটপাত দখলের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।” বাল্যবিবাহ বা মাদকের বিরুদ্ধে সমাজে যেভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে, ঠিক তেমনি ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধেও শহরবাসীকে নিয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পৌর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নেত্রকোনার সাধারণ পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই শহরটির যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হবে।


