সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পদত্যাগপত্র জমা দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজেই জাতীয় সংসদ ভবনে যান মিষ্টি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্পিকার ডেকেছিলেন, এ জন্য দেখা করেছি।’ এর আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মিষ্টির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর তাঁর পদত্যাগের কারণে সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনটি ওই তারিখে শূন্য হয়েছে।
মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম আলোচনায় আসে। তাঁদের কেউ কেউ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তও চলছে।
এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির একটি সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলো। পরবর্তী সময়ে আইন ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ওই আসন পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


