জামালপুর প্রতিনিধি: আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশু যেন ঝরে না পড়ে এবং এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যেন আত্মমর্যাদার সঙ্গে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে পারে- মহান এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে তিন মাসের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসি। জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, ‘শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও এতিম শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।’
এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, ‘শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো তার শিক্ষা। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া উচিত নয়।’ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি দোস্ত এইডের এই মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একজন শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে পারলে একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব। তাই আমরা শুধু শিক্ষাবৃত্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নেই; শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, উপস্থিতি এবং সার্বিক বিকাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদৎ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা টেকসই সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দোস্ত এইডের মতো সংগঠনগুলো সমাজকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকাম বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা মানে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করা। দোস্ত এইড দীর্ঘদিন ধরে যে নীরব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণযোগ্য।’ তিনি সমাজের বিত্তবান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা দোস্ত এইডের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই শিক্ষাবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং এটি তাদের সন্তানদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার অনুপ্রেরণা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, সুধীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে। সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, গৃহায়ণ, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ দেশব্যাপী ব্যাপক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংস্থাটি অঙ্গীকারবদ্ধ।


