নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নে এক রাতেই চারজন কৃষকের গোয়ালঘর থেকে নয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে ইউনিয়নের হারারকান্দি ও সুলতানপুর গ্রামে এ দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পরপর কয়েকটি চুরির ঘটনায় পুরো হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, চোরেরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
হারারকান্দি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিমের বসতঘর ও গোয়ালঘর পাকা হওয়া সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। চোরেরা রাতে বাইরে থেকে তার বসতঘরের সামনের ও পেছনের দরজা রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখে, যাতে কেউ বের হতে না পারে। এরপর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে আড়াই লাখ টাকা মূল্যের তিনটি ষাঁড় গরু চুরি করে নিয়ে যায়।
একই গ্রামের কৃষক হায়দার হোসেন রাত ১টার দিকেও তার গোয়ালে গরুগুলো দেখতে পান। কিন্তু রাত ২টার দিকে তার ছোট শিশুর মল পরিষ্কার করার জন্য ঘরের বাইরে বের হলে চুরির বিষয়টি টের পান। তিনি দেখেন, গোয়ালঘরের দরজার বাঁধন কাটা এবং ভেতরে থাকা সাতটি গরুর মধ্যে দুটি নেই। বাকি চারটি গরুর রশি কাটা থাকলেও সেগুলো গোয়াল থেকে বের হয়ে যাওয়ায় চোরেরা নিতে পারেনি। চুরি যাওয়া একটি ষাঁড় ও একটি গাভীর আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা।
একই রাতে হারারকান্দি গ্রামের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর গ্রামেও হানা দেয় চোরেরা। ওই এলাকার সিরাজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়। এছাড়া একই এলাকার শামসু মিয়ার গোয়ালঘর থেকেও ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাভী চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরের দল।
চুরির বিষয়ে চাকুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলু মিয়া বলেন, “হারারকান্দি গ্রামের পাঁচটি এবং সুলতানপুর এলাকার চারটিসহ নয়টি গরু চুরির বিষয়টি আমি নিশ্চিত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকদের আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়িকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ ফাঁড়িতে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার সুযোগ না থাকায় কৃষকদের খালিয়াজুরী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম খান জানান, গরুর মালিকেরা ফাঁড়িতে এসেছিলেন, তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের খালিয়াজুরী থানায় গিয়ে জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চুরির বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুদকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওর এলাকার মানুষ এমনিতেই এ বছর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, এর মধ্যে কৃষকদের গরু চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
মামলা বা অভিযোগের বিষয়ে ওসি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করার আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের প্রধান সম্বল গবাদিপশু। এক রাতে এভাবে একাধিক গোয়ালঘরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকসহ এলাকাবাসী দ্রুত চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


