মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মানবিক সহায়তা ভর্তুকির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষিজমি না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নাম কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কঠোর নির্দেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ সন্দেহভাজনদের ভর্তুকির চাল ও অর্থ বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইউনিয়ন পরিষদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনার তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে গত ১৭ জুন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ওই অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়পুর গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন বিএনপি কাউন্সিলর কামাল মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, যুবদল কর্মী মো. হুমায়ূন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াসহ ১৫ জনকে বর্গা বা প্রান্তিক কৃষক হিসেবে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দৃঢ় দাবি, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির নিজস্ব কোনো কৃষিজমি নেই এবং তারা আদৌ কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, সম্পূর্ণ প্রভাব খাটিয়ে তাদের নাম মানবিক সহায়তা ভর্তুকির আওতাভুক্ত করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়া দাবি করেন, “ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আমি বা আমার দলের কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
ভর্তুকি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ৫নং সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফকরুল আলমগীর বলেন, “তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই ১৫ জনসহ পুরো ইউনিয়নের প্রায় একশো জনের মানবিক সহায়তা ভর্তুকি ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রকৃত কৃষকদের হাতেই সরকারের এই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


