নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় চুরির অপবাদ ও পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে রুপা আক্তার (২০) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের শাশুড়ি শরিফা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
নিহত রুপা আক্তার উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সানকিডুয়ারী গ্রামের নাঈম খানের (২২) স্ত্রী এবং আব্দুল মতিন ও মাজেদা খাতুনের মেয়ে। মাত্র ১১ মাস পূর্বে পারিবারিকভাবে নাঈম খানের সাথে রুপার বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচ আগে রুপা আক্তারের শাশুড়ি শরিফা খাতুন বসতঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ২০ হাজার টাকা রাখেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে ১০হাজার টাকা হারিয়ে যায় বা খোয়া যায়। এই টাকা চুরির পেছনে পুত্রবধূ রুপা আক্তার জড়িত রয়েছেন- এমন সন্দেহ থেকে পরিবারে অশান্তির সূত্রপাত হয়।
টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে রুপা আক্তারকে চোর সন্দেহ করে তার স্বামী নাঈম খান এবং শাশুড়ী শরিফা খাতুন তাকে মানসিক নির্যাতন ও গালমন্দ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও মানসিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল থেকে রুপা আক্তার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই সাংসারিক কাজকর্ম ও রান্নাবান্না সম্পন্ন করেন। দুপুরের দিকে তার স্বামী নাঈম খান খাবার খেয়ে নিজ কাজে বাইরে চলে যান। এরপর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের ভেতরে সবার অগোচরে বিষপান করেন রুপা।
দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ঘরের বিছানায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা কাছে যান। এ সময় তার মুখে বিষের তীব্র গন্ধ পেয়ে স্বামী ও শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বেলা অনুমান ২টার সময় পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শাশুড়ির সাথে কথা কাটাকাটির জেরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়ী শরিফা খাতুনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


