মোঃ নাজমুল হাসান অপু। বরগুনা প্রতিনিধি :
বরগুনার তালতলীতে জাতীয় দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ জাফরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন সৌদি রিয়াল প্রতারক মোঃ সেলিম হাওলাদার। তবে ঘটনার দিন মাসুম বিল্লাহ’র উপস্থিতির একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বরগুনার তালতলীতে দেখা যায়।
যা ঘটনাস্থল থেকে আকাশ পথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার এবং স্থলপথে তিনভাগেরও বেশি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও এমন হয়রানী মূলক মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকরা। জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোনতাজ এলাকার বাসিন্দা আ. রহিমকে সৌদি রিয়ালের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক সেলিম। ৭১ টেলিভিশন সহ দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমে সেলিমের প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ করে।
এদিকে সেলিমের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী আদালতে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী আ. রহিম। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রতারক সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরপরই গাঢাকা দেয় সেলিম। এদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেলিমের স্ত্রী কুলসুম তালতলী সাংবাদিক ঐক্যজোটে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জন্য লেখিত অভিযোগ দেয়। তবে অত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও গণমুক্তি পত্রিকার তালতলী প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ জাফর প্রতারক সেলিমের পক্ষে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে অসম্মতি জানায় এবং কোনো প্রতারকের সহযোগিতা করা হবে না বলে জানান। এরই জের ধরে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ রাঙ্গাবালী থানায় মামলা দায়ের করে সেলিম।
সে মামলায় রাঙ্গাবালী থানার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী এলাকায় সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ জাফরসহ আরও ৩ জনকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখানো হয়। অথচ একই দিন একই সময়ে মাসুম বিল্লাহ জাফর বরগুনার তালতলী বাজারে এবং ওসির কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এর একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ জাফরের দাবি, প্রতারক সেলিম তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখানো হয়েছে অথচ সে সময়ে তিনি তালতলী থানায় উপস্থিত এবং বাজারে চলাফেরার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তার। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তালতলী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। রাঙ্গাবালী থানার এসআই সোহেল (তদন্ত কর্মকর্তা) বলেন, ১৮৭/২৫ নং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এদিকে তালতলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান ঘটনার মাসুম বিল্লাহ’র তালতলী থানায় উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

