মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে ইসরাত জাহান মিম (২০) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
আটককৃত অপহরণকারী মিম আটপাড়া উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। অপহৃত নাদিয়া আক্তার (১০) উপজেলার সুয়াইর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আল আমিনের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (৬ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মোহনগঞ্জ শহরের বিএনপি অফিস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে নাদিয়া তার সহপাঠীদের সাথে আদর্শ নগর বাজার এলাকায় প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইসরাত জাহান মিম নিজেকে নাদিয়ার ‘আন্টি’ পরিচয় দিয়ে তার সাথে কথা বলতে শুরু করে। কৌশলে অন্য সহপাঠীদের সরিয়ে দিয়ে নাদিয়াকে তার মায়ের জন্য উপহার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় অপহরণকারী। পরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে কৌশলে তাকে মোহনগঞ্জ শহরে নিয়ে আসে।
নাদিয়ার চাচা হেলাল উদ্দিন জানান, শহরে আসার পর মিম নাদিয়ার কানের দুল খুলে স্থানীয় একটি দোকানে বিক্রি করে দেয়। এরপর নাদিয়াকে লাল রঙের নতুন জামা কিনে পরিয়ে তার পুরাতন জামাগুলো ফেলে দেয়, যাতে তাকে সহজে শনাক্ত করা না যায়। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোহনগঞ্জ বিএনপি অফিস মোড় থেকে অন্য একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করার সময় নাদিয়া আপত্তি জানায়। তখন অপহরণকারী তাকে চুপ থাকার জন্য হুমকি দেয়।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ে নাদিয়া বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নেন। সহপাঠীরা জানায়, নাদিয়াকে এক ‘আন্টি’ নিয়ে গেছেন। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি শুরু করেন। এরই মধ্যে খবর আসে যে, বিএনপি অফিস মোড় এলাকায় সন্দেহভাজন এক নারীসহ এক শিশুকে জনতা আটক করেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নাদিয়াকে উদ্ধার করেন এবং অপহরণকারী মিমকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “জনতার সহায়তায় অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারী মিম আমাদের হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগীর মা কল্পনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। মামলা রুজু হওয়ার পর আটককৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণকারী মিম কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

