নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এক মাদরাসা শিশু ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ। দীর্ঘদিনের আত্মগোপনে থাকা অভিযু্ক্ত শিক্ষককে বুধবার ভোরের দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসারই শিক্ষার্থী। শিশুটির বাবা নিরুদ্দেশ থাকায় এবং মা সিলেটে গৃহকর্মীর কাজ করায় সে তার নানির কাছে থেকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে তার মা তাকে মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে শিশুটি পরিবারকে জানায়, গত বছরের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটির পর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক আমানুল্লাহ তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত আমানুল্লাহ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৪, সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল আজ (বুধবার) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে আত্মগোপনে থাকা আমানুল্লাহকে র্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
র্যাব-১৪-এর মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মদন থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

