স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জে সরকারি জলমহাল আইন,২০২৬ এর খসড়া চুড়ান্তকরণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১.৩০ টায় ভূমি মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন- মধ্যসত্বভোগীরা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে এটা হতে দেয়া যাবে না। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে হাঁস-মুরগি পালনসহ অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জলমহাল ইজারার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়েও ভাবনার কথা জানান। নতুন জলমহাল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা উপকৃত হবেন এবং এ খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে। জ্বালানির অভাবে হাওর অঞ্চলে ধান ঘরে তুলতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগরে সাম্প্রতিক ঘটনায় ১২টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, এবং প্রধানমন্ত্রীও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে।
বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরনের দায়িত্ব সরকারের। আর তার অগ্রভাগ আসে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের কাছ থেকে। হাওরের কৃষক,মৎসজীবিরা কঠিন জীবন সংগ্রাম করে জীবিকা ফসল উৎপাদন করে। সুনামগঞ্জ হাওরের রাজধানী এখানে মৎস্য এর অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত। এখানকার কৃষক বাংলাদেশের ৮ ভাগের ১ ভাগ ধান উৎপাদন করেন। কিন্তু, এই ধান নিয়ে প্রতি বছর কৃষকরা শঙ্কায় থাকেন। প্রধানমন্ত্রী সকল সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন হাওরে গিয়ে ফসলরক্ষাবাঁধ সহ ফসলি জমি পরিদর্শন করার জন্য। কৃষকরা যাহাতে তাদের স্বপ্নের ফসল নির্বঘেœ গোলায় তুলতে পারে।
যার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের জন্য খাদ্যের স্বয়ং সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, মনে রাখবেন রাজনীতিবিদ ও জনগণ একে অন্যের পরিপূরক। তাদেও মূর্যায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হলো। কিন্তু, রাজনৈতিক দূরদর্শীতার অভাবে ১৯৭৪ সালে দূর্ভিক্ষ হয়েছে। কিছু অসাধু চক্র রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে দেশের বাহিরে টাকা পাচার করে। যার ফলে দেশে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। বিগত ১৭ বছর এভাবে দেশের বাহিরে রাজনীতিবিদরা বিত্তবৈবের মালিক হয়েছেন। বিভিন্নভাবে ভূমির মালিক হয়েছেন। কোন প্রপাগা-ার মধ্য দিয়ে যাহাতে এইসব চক্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মরমি কবি হাসনরাজা, শাহ আব্দুল করিম, দূর্বিন শাহ, এম এ জি ওসমানী সহ সুনামগঞ্জের গুনীজনদের সুনাম রক্ষায় কাজ করার আহবান জানান তিনি। ভূমি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম সালেহ আহমদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-মধ্যনগর-ধর্মপাশা) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য এম কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ^ম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ডঃ মোহাম্মদ ইলয়াস মিয়া প্রমুখ। কর্মশালায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ মৎস্যজীবিরা উপস্থিত ছিলেন।
