শেখ শামীম: পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং এ বিষয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অনুষ্ঠিত হয়েছে “মিডিয়া অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অন এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ” শীর্ষক কর্মসূচি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ইউএনও কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকুট স্নাল এর সভাপতিত্বে এবং সূচনা রুরাম এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা, নদী ও জলাশয় রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, পরিবেশ রক্ষা করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। বরং গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক জনমত গঠনে গণমাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে নিজেদের মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, মহাদেও নদ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল নাফাক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক পাঠান ও সহ-সভাপতি এনামুল হক তালুকদার, সিনিয়র সাংবাদিক ফখরুল আলম খসরু, ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সেক্রেটারি সুজিত মানখিন।
সভায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অবাধে পানি ও নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভবিষ্যতের যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মিডিয়া অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
“পরিবেশ রক্ষা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি- যুগোপযোগী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবং সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।


