কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বরাবরই ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করেন চা-শ্রমিকরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর দেশের এই চা-রাজধানী। বিশাল এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে যাবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে—এমন সমীকরণ মাথায় রেখেই প্রার্থীরা এখন চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন চা-বাগান। মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটারের একটি বিশাল অংশ চা-শ্রমিক।
এখানকার ফিনলে, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি), ব্যক্তি মালিকানাধীন সহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাগানে প্রায় লক্ষাধিক চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্য ভোটার রয়েছেন। এই ভোটাররা সাধারণত দলবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে থাকেন, যার ফলে প্রার্থীদের জয় পরাজয়ে তাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণ পথসভার চেয়ে বাগানভিত্তিক ‘উঠান বৈঠক’ ও ‘শ্রমিক সমাবেশ’কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে: দৈনিক মজুরি বৃদ্ধিঃ বর্তমান বাজার দরের সাথে তাল মিলিয়ে মজুরি পুনর্নির্ধারণের আশ্বাস।
ভূমির অধিকারঃদীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’ নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঃবাগান এলাকায় উন্নত স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলছেন প্রার্থীরা।বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এ প্রতিনিধিকে বলেন,আমাদের চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি,আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত অন্যতন”প্রার্থীরা প্রতিবারই ভোটের আগে আসেন, অনেক কথা বলেন।
তবে এবার আমরা সচেতন। যে আমাদের আবাসন ও রেশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, তাকেই আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই।”বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী,মো.মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ১১ দলীয় জোটবদ্ধ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাশ,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী,স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.মহসিন মিয়া মধুসহ অন্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শ্রমিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়েও এখানে ‘সরাসরি যোগাযোগ’ এবং ‘লিফলেট বিলি’ বেশি কার্যকর হচ্ছে। অনেকে আবার শ্রমিকদের ভাষায় (দেশওয়ালী বা চা-জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক ভাষা) কথা বলে তাঁদের আপন হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে নির্বাচনের দিন যতই কাছে আসছে, বাগানগুলোতে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা ততই বাড়ছে। কিছু কিছু জায়গায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে শঙ্কা একটাই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হবে।সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রতিটি চা-বাগানে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। শেষ পর্যন্ত কার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখবেন চা-শ্রমিকরা, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটেই প্রমাণিত হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামান জানান,কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে মাইকিং না করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে প্রার্থীদের।তিনি জানান, যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রসঙ্গত, এ আসনে বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), বিএনপির বিদ্রোহী(বহিস্কৃত)স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান (মই) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার৫৮ জন।


