ছবি:সংগৃত
রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে, পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও টহল।
উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কয়েক দিন ধরে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চলছে। বালাপাড়া, ঠাকুরগঞ্জ, কালীগঞ্জ, থানারহাট, বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত ফাঁড়িতে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে রাতভর পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সম্ভাব্য ‘পুশইন’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তসংলগ্ন জনপদেও উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দেখলে দ্রুত প্রশাসন বা বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান জানান, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা তারিফ ও বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে সজাগ রাখা হয়েছে। দেশের স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাতভর পাহারা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্তে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রমে সীমান্তবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি, তবুও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে বিজিবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ।



