নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে আশিক (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে, দুপুরের দিকে উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ঈশ্বরখলা কান্দিয়া গ্রামের খোশ মাহমুদের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি কাটাতে সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন আশিক। মঙ্গলবার সকালে তিনি দুর্গাপুরে তার বড় ভাই ওমর ফারুকের বাড়িতে বেড়াতে যান। বড় ভাই ওমর ফারুক পেশায় একজন নৌকার মাঝি, তিনি তেরি বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ বাজার ঘাট পর্যন্ত নৌকা চালান।
দুপুরে আশিক তার বড় ভাইয়ের ছেলেকে (ভাতিজা) সাথে নিয়ে শিবগঞ্জ ঘাটে সোমেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামেন। গোসল করার একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তিনি। এ সময় সাথে থাকা ভাতিজা ভয় পেয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত নদীর ঘাটে ছুটে আসেন এবং নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নদীতে টানা পাঁচ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর তল্লাশি অভিযান চালানোর পর বিকেল ৫টার দিকে নদী থেকে আশিকের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরিরা। ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসে যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।”



