টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের, এমন অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সেহরাইল গ্রামের আব্দুল মালেক খানের ছেলে মো. চঞ্চল ভাদ্রা ইউনিয়নের সারের ডিলারের কাছ থেকে যমুনা ফার্টিলাইজারের সার ১ হাজার টাকা করে ক্রয় করেন। যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তায় ২ শত টাকা বেশি।
ভাদ্রা ইউনিয়নের সার ব্যবসায়ী রবিউল বস্তায় ২শত টাকা বেশি দামে সার বিক্রির প্রসঙ্গে বলেন, বাইরে থেকে কেনা সারের খরচ তুলতে কেজিতে ৫০ পয়সা বেশিতে বিক্রি করেছি। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করিনি।

এছাড়াও উপজেলার সদর ইউনিয়ন সহ আশেপাশের সকল ইউনিয়নে সার ক্রেতা কৃষকদের সাথে জানায় অতিরিক্ত দামে তাদের সার ক্রয় করতে হচ্ছে। সার ক্রয় করা কৃষকদের সময় র্যন্ডম সিলেকশন প্রক্রিয়ায় তাদের সাথে কথা হয়।
এদের মধ্যে পানান গ্রামের রায়জন সিকদারের ছেলে বাচ্চু, সহবতপুর ইউনিয়নের কোরবান আলী, সদর ইউনিয়নের কালা চাঁন, সিংদাইরের শহিদুল, মামুদনগরের মিয়ার চাঁন সহ প্রায় কয়েক ডজন কৃষককের সাথে কথা বলে জানা যায়, টিএসপি, ডিএপি, পটাশ এবং ইউরিয়া সার ক্রয় করে প্রতি বস্তায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫০- ২০০ শত টাকা বেশি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি প্রসঙ্গে পানান বাজারের ডিলার নয়েছ মিয়া বলেন, আমাদের বরাদ্দ কম থাকায় বাইরে থেকে যে সার গুলো কিনে আনতে হয়েছে সেগুলো প্রতি কেজিতে ১-২ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার কয়েকজন সার ডিলারদের সাথে নাম না প্রকাশের শর্তে কথা বলে জানা যায়, তারা যেভাবে ক্রয় করছেন তারা সেভাবেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ আবার এ মৌসুমের শুরু থেকে নগন্য পরিমানের সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করছেন, তবে উপজেলা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শতকরা ৮০ শতাংশের বেশি কৃষককে এ বছর সার কিনতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা।
মামুদনগর ইউনিয়নের বিক্রেতা শহিদুল অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কথ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সারই পাচ্ছি না। আরো তো বেশি দামে বিক্রি করা।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার কৃষি অফিসার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় সরিষা ও বোর ধানের বীজতলা প্রস্তুত করছে কৃষকরা। এতে তারা টিএসপি, ডিএপি, পটাশ এবং ইউরিয়া সার ব্যবহার করছে। আমাদের সরকারের যে বরাদ্দ সেটা হয়ে গেছে এবং আস্তে আস্তে সার আসা শুরু হয়েছে। আমি কৃষকদের অনুরোধ করবো, আপনারা বেশি দামে সার কিনবেন না। আমাদের ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে, তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে সার বিক্রি না করে। কৃষকদের একটু ধোর্য্য ধরে সার ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের বরাদ্দ আছে, আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আমরা অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুত এ বরাদ্দ আমরা পেয়ে যাবো।

