নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় সিগারেট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠিত সোহেল মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি হযরত আলীকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গ্রেপ্তারকৃত হযরত আলী ময়মনসিংহ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিপিএসসি, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের বিশেষ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তারা আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গত ৭ মে দুপুর অনুমান ২টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্পের সহায়তায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা এমসি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও র্যাবের তথ্যমতে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নিহত সোহেল মিয়া বাজারে গেলে তার পরিচিত ছোট ভাই রাতুল হাসান অমিয় (১৯) তার কাছে ধূমপানের জন্য সিগারেট চায়। বড় ভাই হিসেবে সোহেলের কাছে অমিয়’র এই আচরণকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
র্যাব আরও জানায়, এ ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতুল হাসান অমিয় বিষয়টি তার সহযোগীদের জানায়। ওই দিন রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চুরখাই বাজারে সোহেল মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সোহেলের পিঠে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে সোহেলের মা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, ঘটনার পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করেছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

