Category: মতামত

  • “রিসোর্টকাণ্ড মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয়, এ নিয়ে হেফাজতের কোন বক্তব্য নেই”

    “রিসোর্টকাণ্ড মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয়, এ নিয়ে হেফাজতের কোন বক্তব্য নেই”

    রিসোর্টকাণ্ড মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয়, এ নিয়ে হেফাজতের কোন বক্তব্য নেই বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

    রবিবার বিকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি।

    মামুনুল হকের অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাবুনগরী বলেন, এ বিষয়ে আজকের সভায় কোনো আলোচনা হয়নি।
    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

    রমজানে মকতব হিফজ বিভাগগুলো খোলার অনুমতি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

    বাবুনগরী বলেন, কোরআন তিলাওয়াত এবং দোয়ার মাধ্যমে বালা-মুসিবত দূর হয়ে যায়। সেই হিসেবে দেশের স্বার্থে কওমি মাদ্রাসার কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ অব্যাহত রাখার অনুমতি প্রদান করা হোক।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মুনির কাসেমী প্রমুখ।

  • হাত ধোয়া ও দৈহিক দূরত্বই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি

    হাত ধোয়া ও দৈহিক দূরত্বই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি

    যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিম ইউনুস তার পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে টুইটারে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার এসব বিশ্লেষণমূলক লেখা ও তথ্য এরইমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। করোনা নিয়ে ডা. ফাহিমের পরামর্শ হলো আগামী কয়েক মাস বা বছর ধরে কভিড-১৯ এর সাথে আমাদের থাকতে হতে পারে। এ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে জীবনটাকে আমরা যেন জটিল না করে তুলি। বরং এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে শিখি।

    করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অনেকেই বারবার গরম পানি পান করেন। ডা. ফাহিমের মতে, এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোষের দেয়ালগুলিতে প্রবেশ করা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করা যায় না। হাত ধোয়া এবং দুই মিটার দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখাই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি।

    ডা. ফাহিম ইউনুসের পরামর্শ, করোনারোগী না থাকলে বাড়ি বারবার জীবাণুমুক্ত করার দরকার নেই। বাজার থেকে আনা ব্যাগ, গ্যাস স্টেশন, শপিং কার্ট এবং এটিএম সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। হাত ধুয়ে নিন, যথারীতি স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। তার আরও কয়েকটি পরামর্শ :

    ১. করোনা খাদ্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না। এটি ফ্লুর মতো সংক্রামক ফোঁটাগুলির সাথে সম্পর্কিত। খাবার অর্ডার দিয়ে করোনা সংক্রমিত হওয়ার কোনও ঝুঁকি নেই। ঘরে ফিরে সঙ্গে সঙ্গেই পোশাক পরিবর্তনেরও দরকার নেই এবং গোসল করতে হবে না। তবে অবশ্যই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

    ২. করোনাভাইরাস বাতাসে উড়ে বেড়ায় না। ঘরে বসে না থেকে বাইরে হাঁটতে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

    ৩. নিয়মিত সাবান ব্যবহার করুন। হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবানের দরকার নেই। করোনা ব্যাকটেরিয়া নয়, ভাইরাস।

    ৪. জুতার মাধ্যমে করোনাভাইরাস বাসায় নিয়ে আসার ঝুঁকি সেভাবে নেই বললেই চলে। ভিনেগার, আখের রস এবং আদা সেবন করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। এগুলো শুধু, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

    ৫. দীর্ঘক্ষণ ধরে একটানা মাস্ক পরলে তা শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটায় এবং অক্সিজেনের স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাস্ক শুধু লোকসমাগম ও ভিড়ের মধ্যে পরবেন। এককথায়, যখনই লোকজনের কাছাকাছি থাকবেন তখনই মাস্ক পরবেন।

    ৬. করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে অনেকেই গ্লাভস পরেন। কিন্তু এটা মোটেও কার্যকরী কোনো উপায় নয়। কারণ গ্লাভস ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারে এবং সেটি দিয়ে মুখে স্পর্শ করলে করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন। ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হাত ধোয়াই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

  • আর কোন নুসরাতকে যেন এমন নৃশংস খুনের শিকার হতে না হয়

    আর কোন নুসরাতকে যেন এমন নৃশংস খুনের শিকার হতে না হয়

    আজ ১০ এপ্রিল দেশব্যাপী আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ১০ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ওঠে। একমাত্র বোনের চলে যাওয়ার দিনে ছোট ভাই রায়হান ফেসবুকে বোনের স্মৃতিচারণা করেছেন, সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ফেসবুকে।

    রায়হান লিখেছেন:

    আজ ১০ এপ্রিল।

    আমার প্রিয় বোন হারানোর দুই বছর। ঝড়ের বেগে যে উল্কাপিণ্ডের মতো আঘাত আমাদের পরিবারকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল, সেই ক্ষত, সেই আঘাত এতোটুকুও শুকাইনি। এখনো দগদগে। বোনের স্মৃতি, আর্তচিৎকার আজও আমার কানে বেজে বেজে উঠে। শিউরে উঠে দেহের শিরা উপ-শিরা।

    কাজের মাঝেও চলে আসে ক্লান্তি। চারদিক যেন নিরব-নিস্তব্ধ ও অন্ধকার হয়ে আসে। অশ্রুহীন চোখে কান্নার শক্তিও যেন আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

    অসহায়ের মতো সেদিন কেবলই চেয়ে ছিলাম পারওয়ারদিগারের ফায়সালার দিকে। দুনিয়ার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে আজকের দিনটিতে আপু না ফেরার দেশে চলে গেলেন। সেই যাওয়ার আজ দুই দুই বছর ফেরিয়েছে। কিন্তু আমাদের পরিবার বোনের উপস্থিতি ক্ষণিকের জন্যও আমরা ভুলে থাকতে পারিনি। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমাদের প্রতিনিয়ত।

    হারানোর এই ব্যথা স্রষ্টা বিনে বোঝার সাধ্যও কারো নেই। অনুভূতিহীন সব ব্যথার নাম আমাদের কান্না, হৃদয়ের রক্ষক্ষরণ।

    ভাই-বোনের সম্পর্ক বোধহয় এমনি!

    যেদিন আপু আগুনে পুড়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছিলো, সেদিন মনে হয়েছিলো তার কষ্টের সবটুকু আমি ধারণ করি। নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে বলেছিলাম কেঁদো না, তোমার ভাইতো পাশেই আছে।

    হুম!

    পাশেই থাকবো। যতদিন না সে-সব নরপিশাচ কুলাঙ্গারেরা আপন পাপের হিসেব শেষে ফাঁসির মঞ্চে দাড়াঁবেন, ততেদিন ভাই হিসেবে আমি-আমরা পাশেই থাকবোই।

    ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল। ঘটনার পরপর বাংলাদেশসহ বিশ্ববিবেককে চরম ভাবে আহত করেছিলো এই নৃশংস ঘটনা।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত কাছ থেকে আমাদের ও পরিবারের খোঁজ রাখছেন। পাশেই আছেন আমাদের। যার জন্যে আমরা কৃতজ্ঞ।

    সাথে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন। যাতে আমাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা-প্রত্যাশা আরো অনেক বেড়েছে। আমার পরিবার কোনদিন আপনাদের এই ঋণ ভুলবে না। আপনাদের এই ঋণ শোধ করবার ও নয়।

    আমরা আহ্বান করবো, মহামান্য আদালত  খুনিদেরকে যে সর্বোচ্চ রায় দিয়েছে আশা করি উচ্চ আদালতও খুনিদের সর্বোচ্চ রায় বহাল রাখবে এবং অনতিবিলম্বে আমার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ সৃষ্টি করবেন।

    যাতে করে আমার বোনের মতো আর কোন নুসরাতকে এমন নৃশংস খুনের শিকার হতে না হয়। এটাই আমাদের এবং সকলের একমাত্র চাওয়া, একমাত্র দাবিও। সবশেষে মহান আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন, হে আল্লাহ আমার বোনকে পরপারে শহীদের মর্যাদা দিয়ে তোমার জান্নাতের মেহমান করে নিও। আমাদের পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন।

    আমিন।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • সংক্রমণের ৪০ দিন পরেও করোনা টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে

    সংক্রমণের ৪০ দিন পরেও করোনা টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে

    ১.আপনার ঘরে যদি এক বা একাধিক কোভিড পজিটিভ রোগী থাকেন তারা আইসোলেটেড থাকবেন তথা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখবেন।

    ২. ঘরে কোভিড পজিটিভ রোগীর আছে এই যুক্তিতে অযথা কভিড টেস্ট করাবেন না। তবে আপনার যদি কোভিডের লক্ষণ দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে আপনাকেও টেস্ট করতে হবে।

    ৩. আপনার ঘরে কোভিড পজিটিভ রোগী থাকলে আপনার কোভিড রিপোর্ট থাকুক বা না থাকুক, পজিটিভ নেগেটিভ যাই হোক, আপনাকেও ঘরে থাকতে হবে। বের হবেন না, অফিসে বা কাজে যাবেন না। কেননা টেস্ট নেগেটিভ বা লক্ষণহীন (asymptomatic) হয়েও আপনি অন্যদের মধ্যে করোনা বিস্তারে সক্ষমতা রাখেন যেহেতু আপনার ঘরে কোভিড পজিটিভ রোগী আছেন।
    ৪. আপনার স্বজনের যেদিন লক্ষণ দেখা দিয়েছে অথবা যেদিন পজিটিভ হয়েছে এর মধ্যে যেটি আগে সেদিন থেকে সম্পূর্ণ ১০ (দশ) দিন আপনাকে সমাজ থেকে এবং আপনার স্বজনকে পরিবারের অন্য সদস্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আইসোলেশন ১০ দিন হলে চলে, তবে ১৪ দিন হলে আরো ভালো, তখন আর কোনো ঝুঁকি থাকে না।

    উল্লেখ্য, রোগী যদি আইসিইউর প্রয়োজন হয়েছিল এমন তীব্র সংক্রমণে ভুগে থাকেন তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২১ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকবেন।

    ৫. কোভিড টেস্ট পজিটিভ হলে রোগ সেরে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন (৪০ দিন বা তার বেশি দিন পর্যন্ত) পরবর্তীতে টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে। ভাইরাসের ভগ্নাংশের জন্য পরবর্তীতে পজিটিভ হয়, আসল ভাইরাসের জন্য নয়। তাই দ্বিতীয়বার বা বারবার কোভিড টেস্ট করানোর কোনই প্রয়োজন নেই। তবে অফিশিয়াল বা ভ্রমণ জনিত প্রয়োজনীয়তার প্রশ্ন থাকলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।

    ৬. অফিসগুলির উচিত কারো করোনা লক্ষণ দেখা দেওয়ার বা কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর ১৪ দিন পার হয়ে গেলে অফিসে যোগদান করতে কোভিড টেস্ট এর বাধ্যবাধকতা না দেয়া।

    ৭. ভিতরে সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও শতভাগ ক্ষেত্রে কোভিড টেস্ট পজিটিভ আসে না। PCR টেস্ট ১০০ জন কোভিড রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫-৭০ জনকে শনাক্ত করতে পারে, সময়ের সাথে হার আরও কমে। সুতরাং কারো টেস্ট নেগেটিভ হয়েও শরীরে করোনা থাকতে পারে যদি যথাযথ লক্ষণ থাকে।

    ৮. এন্টিজেন টেস্টেও পিসিআর টেস্টের মতো করোনা সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও নেগেটিভ আসতে পারে।

    ৯. বুকের সিটিস্ক্যানে করোনা ইনফেকশন ধরা পড়লে কোভিড টেস্ট পজেটিভ কি নেগেটিভ তাতে কিছু যায় আসে না।

    ১০. অনেক কোভিড রোগীরই কোভিড টেস্ট নেগেটিভ আসে। তাই রোগ নির্ণয়ে সিটিস্ক্যানের উপর অনেক সময় নির্ভর করতে হয়।

    ১১. সিটি স্ক্যানে করোনা পজিটিভ হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার কোভিড টেস্ট করাটা অপ্রয়োজনীয় ও সম্পদের অপচয়।

    ১২. নিজের বা স্বজনের কোভিড হয়ে থাকলে নিয়মিত বিরতিতে পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন মাপতে থাকুন। এটি ৯৩% এর নিচে নেমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে আরও কিছু ঔষধ লাগবে এবং অক্সিজেন লাগবে।

    লেখক : এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (চেস্ট), বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

  • পাত্তাই দিচ্ছে না কেউ ভয়ংকর করোনাকে

    পাত্তাই দিচ্ছে না কেউ ভয়ংকর করোনাকে

    ভাইরাস আবারও হিংস্র ছোবল মারছে আমাদের উদাসীন শহরে, চরম উপেক্ষার গ্রামীণ জীবনে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। হাসপাতালের বেডের জন্য সংক্রমিত মানুষের স্বজনদের হাহাকার। খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার চাকা থেমে যাচ্ছে। থেমে যাচ্ছে জীবনের চিরচেনা সুর। থেমে গেছে সেই পাখির কলরব। থেমে গেছে নদীর কলতান। থমকে গেছে চন্দ্র- তারকা খচিত রাতগুলো।

    বদলে গেছে প্রকৃতির রঙ, বদলে গেছে জীবনের রঙ, বদলে গেছে রাজনীতির রঙ, বদলে গেছে আমাদের আচার-আচরণের রঙ। শুধু বদলায়নি অনিয়মের নিরন্তর যাত্রা। বদলায়নি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ। মানুষের শত্রু ভাইরাসকে মানুষই জানাচ্ছে সাদর আমন্ত্রণ। অথচ এই প্রাণঘাতী ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে কত আপনজনের প্রাণ। নিভিয়ে দিয়েছে কত চোখের বাতি। তছনছ করে দিয়েছে কত সাজানো সংসার। এই জনপদের কত মানুষ আজ করোনার আঘাতে নিঃস্ব- রিক্ত।

    তবু কেউ মানে না স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক পরতে চায় না বেশিরভাগ মানুষ। লকডাউনের কড়াকড়িতে ঢিলেঢালাভাব। পাত্তাই দিচ্ছে না কেউ ভয়ংকর করোনাকে। কিন্তু করোনা কাউকে করেনা করুণা। জানি না, আর কতকাল গুণতে হবে আমাদের নিজেদের অবহেলার, উপেক্ষার চরম মাশুল। আমাদের সচেতন হবার সময় কি এখনো আসেনি? দেশের জনগণের নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য যিনি সারারাত জেগে থাকেন তার বারবার উচ্চারিত সতর্কবাণী কি কানে পৌঁছায় না? নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করোনা নিষেধাজ্ঞা আমরা মানব না? না মানলে আমাদের সামনে নির্ঘাত অশনি সংকেত।
    লেখক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

  • আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি, তাতে কার কী: মাওলানা মামুনুল হক

    আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি, তাতে কার কী: মাওলানা মামুনুল হক

    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের আইনেও একাধিক বিয়েতে বাধা নেই। কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী?

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে আজ ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

    ফেসবুক লাইভে মামুনুল হক বলেন, যদি আমি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধে আমার পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে যে আমার পরিবার কোনো বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিয়েছে?
    তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমি কি কথা বলবো না বলবো সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এটি যেমন দেশের আইনেও অপরাধ তেমনি ইসলামী বিধানেও চরম গুণাহের কাজ। সুতরাং আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ যারা ফাঁস করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নেবো।

    তিনি আরও বলেন, আমি সেদিন নারায়নগঞ্জের রয়াল রিসোর্টে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে যে আমি কেন এই পরিস্তিতিতে রিসোর্টে গেলাম। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি যে এমন অসাবধানতাবশত সেখানে আমার যাওয়া সমীচীন হয়নি। তবে আমি জানতাম না যে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত নিরপাত্তা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।

  • এই সব মাথায় গোবর ভরা মেয়েরা কি করে ‘মিস ইউনিভার্স’ হয়?

    এই সব মাথায় গোবর ভরা মেয়েরা কি করে ‘মিস ইউনিভার্স’ হয়?

    শৌচাগারে ঢুকে পুরুষের নগ্ন ভিডিও করা তানজিয়া জামান মিথিলা ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ যে কিনা বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে তুলে ধরবে। এই সব মাথায় গোবর ভরা মেয়েরা কি করে ‘মিস ইউনিভার্স’ হয় ? কোন যোগ্যতায় ?

    প্রচলিত ধারনাটি হচ্ছে ”Beauty without brain is nothing.” অর্থাৎ সৌন্দর্যের সাথে মেধার সম্মিলন না ঘটলে সেই রূপের কোন অর্থ নেই। ইতিপূর্বে আমরা মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় দেখেছি কেবল রূপ নয় মেধার জোরও লাগে। শেষ রাউন্ডটিতে মেধারই জয় জয়কার।

    উদ্যোক্তারা কি ধরেই নিয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাচিত সুন্দরীরা ওই পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, নাকি অন্য কিছু?
    এবারের নির্বাচনে অনেক মেধাবী প্রতিশ্রুতিশীল মুখগুলো টপকে যে বিজয়ী হল সে সকলের পূর্ব পরিচিত নামকরা মডেল, সিনেমার নায়িকা। বিচারকরা তার প্রতি আগে থেকেই খানিকটা পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন নাতো ?

    বাংলাদেশে সত্যিই কি মেধার আকাল? নাকি ইদানীংকালে বাংলাদেশের ইয়াং সুন্দরী মেয়েদের নৈতিক অধঃপতন কিংবা অবক্ষয়কেই স্মার্টন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়?

    লেখক : সম্পাদক, পূর্ব-পশ্চিম বিডি ডট নিউজ

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • ‘নারীরা কী পরবো তা ঠিক করবেন আপনি?’

    ‘নারীরা কী পরবো তা ঠিক করবেন আপনি?’

    এবারের একুশে বইমেলায় মডেল-অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার লেখা ‘গোলাপী জমিন’ ও ‘রাস্তার ধারে গাছটির কোনো ধর্ম ছিল না’ শিরোনামের দুটি বই বেরিয়েছে। সম্প্রতি বইমেলায় গিয়েছিলেন তিনি। বইমেলায় ভাবনার পরে যাওয়ার পোশাক নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ দিয়ে বিরক্ত অভিনেত্রী। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, আমার দোষ আমি হাটাকাটা ব্লাউজ পরে বইমেলায় গিয়েছি? সত্যি! আমাদের নানী দাদীরা এখনও হাটাকাটা ব্লাউজ পরে থাকেন। এই ছবিটি সবাই পোস্ট করছে , আমাকে নিয়ে বাজে কথা লিখছে । অশ্লীল বলছে! যারা পোস্ট করে বাজে লিখছে তারা বেশিরভাগ পুরুষ। সব পুরুষ কে খারাপ বলব কি করে? আমার বাবা তো আমাকে কখনো বলে দেয়নি কি পোশাক পরা উচিত? আমি কী পরবো ? আমরা নারীরা কী পরবো তা ঠিক করবেন আপনি?

    আরেকটি পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, আমার সত্যি কিছু বলার নেই । গত তিন চার দিন ধরে আমি বিরক্ত খুবই ,এবং হতাশ ও আমরা আসলেই কি নারীর সম্মান কখনই দিতে পারব না! ২০২১ সালে স্লিভলেস ব্লাউজ নিয়ে কথা বলতে হয়, এটা নিয়ে আমাকে হেয় করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। ষাটের দশকে, সত্তর দশকেও স্লিভলেস ব্লাউজ পরতো আমাদের দাদি-নানিরা। তখনও এটা স্বাভাবিক ছিল। এখনও তাই আছে বলে আমি বিশ্বাস করি । অথচ এই সময়ে এসে স্লিভলেস ব্লাউজের কারণে কথা হচ্ছে- এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে? আমি কেবল তাদের কথা ভাবি ,যারা প্রতিদিন বাসে যায়, যারা প্রতিদিন পার্লারে কাজ করে রিকশা করে বা হেঁটে বাড়ি ফেরে, প্রতিমুহূর্তে আমাদের সচেতন থাকতে হবে, কাপড় ঠিক করতে হবে? কতটা জঘন্য এদের মানসিকতা! এরাই ধর্ষক।

    আমি এসব নিয়ে পাত্তা দেই না , কারণ আমার সময় নেই, বা আমি অভ্যস্ত বা আমি অভিনয় করি , আমাকে টেলিভিশনে দেখা যায়, তাই ”আমাকে নিয়ে যে কেউ যা খুশি তাই বলার অধিকার রাখে”। এবং আমি এসব পাত্তা দেব না এটাই সদা সত্য, তবে আমি তাদের নিয়ে ভাবি, কত মেয়েকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। আমার কাপড় নিয়ে কথা বলার তুই কে? ‘আমাদের সরকার- আমাদের পুলিশ যদি একটু সহায়তা করতো তাহলে এইসব অপরাধ হয়তো অনেকটা কমে যেতে পারতো। সাইবার ক্রাইমের তত্ত্বাবধানে যদি ১০ জন এরকম অপরাধীকে ধরে শাস্তি দেওয়া যেত তাহলে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারতো। এই দৃষ্টান্ত এইসব অপরাধ অনেক কমিয়ে দিতে পারতো।