নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের মই জাউসি গ্রামে পৈতৃক জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় নারী ও বৃদ্ধসহ একই পরিবারের অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা (আইল) বাঁধার সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- মই জাউসি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. এরশাদ (৫০), মৃত মহর আলীর ছেলে জহুর আলী (৬৫), তাঁর ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২৫), মৃত মহর আলীর ছেলে মো. লাল মিয়া (৮০), জামাল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪০), মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৩৫), মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী বেগম (৬৫) এবং ঢাকা থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা টঙ্গীর এরশাদ নগরের তানভির হোসেনের স্ত্রী সুমি (২৫)।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মই জাউসি গ্রামে পৈতৃক জমি নিয়ে মৃত মহর আলীর পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার জলিল, ছাত্তার, ইসলাম উদ্দিন ও কছুম উদ্দিনদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলছে। মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জমিতে আইল বাঁধতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আমতলা এলাকার ‘রতন’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি বহিরাগত দল নিয়ে দা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা সহকারে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী ও বয়োবৃদ্ধদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে প্রভাবশালী রতনের মোবালে নাম্বারের একধিকবার ফোন দেওয়া হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি; লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


