জামালপুর প্রতিনিধি: জীবনের চাকা ঘোরানোর নিরন্তর সংগ্রাম যাদের, তাদের হাতেই এবার তুলে দেওয়া হলো আয়ের নতুন চাকা। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত পরিবারগুলোর চোখেমুখে এখন কেবলই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। জামালপুরে এমন ২০টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে অটোরিকশা বিতরণের মধ্য দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অটোরিকশাগুলো হস্তান্তর করা হয়। মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়েই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
এটি কেবল একটি অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি সমাজের শেকড় থেকে দারিদ্র্য উপড়ে ফেলার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা দারিদ্র্য বিমোচনে এমন টেকসই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের কেবল সাময়িক সহায়তা দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং আত্মকর্মসংস্থানের এমন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমেই অসহায় পরিবারকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। অটোরিকশাগুলো তাদের সেই স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাডমিন অফিসার কহিনুর আলম চৌধুরী, প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা আলোকপাত করেন, ২০টি অটোরিকশা কেবল ২০টি ধাতব বাহন নয়, এগুলো একেকটি পরিবারের আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার অবলম্বন। অন্যের দয়ায় নয়, বরং নিজেদের ঘাম ঝরানো উপার্জনে এখন থেকে চলবে তাদের সংসার। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দিল, যা সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যখন একে একে ২০টি অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের হাতে অটোরিকশার চাবি তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের চোখেমুখে খেলা করছিল প্রাপ্তির আনন্দ আর নতুন জীবনের আশা। একটি অটোরিকশা যেন তাদের কাছে একটি নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে এসেছে।
সমাজের বিত্তবান ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির মতো এভাবেই গঠনমূলক চিন্তা নিয়ে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ায়, তবে খুব সহজেই স্বনির্ভর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আজ যে ২০টি পরিবার আয়ের পথ পেল, আগামীতে তারাই হয়তো সমাজের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


