দ্য মেইল বিডি | আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন কমে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর দুই মেয়াদ মিলিয়ে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে, রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ, জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপটি পরিচালিত হয়েছে ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মধ্যে, যাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
অর্থনীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে অসন্তোষ
ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ তাঁর জনসমর্থন কমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় ও পেট্রোলের উচ্চমূল্যও ভোটারদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতির বিষয়টিও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ বেড়েছে বলে জরিপের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবেন মার্কিন ভোটাররা। এই নির্বাচন সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হলেও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নীতি ও কর্মদক্ষতার ওপর ভোটারদের মনোভাব বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের জন্য জনসমর্থনের এই ব্যবধান নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে জরিপের ফলাফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না; ভোটার উপস্থিতি, অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্থানীয় ইস্যুও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক রেকর্ড ঘিরে নতুন আলোচনা
জনসমর্থনের এই পতন ট্রাম্পের নীতি, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের রায় রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। নির্বাচনে দলটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন বাধার মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনের নিম্নমুখী প্রবণতা মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই জনমত জরিপকে নির্বাচনের নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


