লাইফস্টাইল ডেস্ক | The Mail BD
কথা হয় নিয়মিত, একে অপরের খোঁজ নেওয়া হয়, একসঙ্গে সময় কাটাতেও ভালো লাগে। আবেগ ও ভালো লাগা থাকলেও সম্পর্কটির কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই। একজন হয়তো সম্পর্কটিকে পরিণতির দিকে নিতে চান, অন্যজন বলছেন, ‘এখন নয়, পরে দেখা যাবে।’ এমন অনিশ্চিত সম্পর্কের ধরন বোঝাতে আলোচনায় এসেছে ‘মেবিলেশনশিপ’ (Maybelationship) শব্দটি।
‘মেবি’ (Maybe) অর্থ ‘হয়তো’ এবং ‘রিলেশনশিপ’ (Relationship) অর্থ ‘সম্পর্ক’—এই দুই শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মেবিলেশনশিপ। এতে দুজনের মধ্যে রোমান্টিক আকর্ষণ বা আবেগ থাকতে পারে, কিন্তু সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক বা স্থায়ী রূপ পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এটি কোনো স্বীকৃত মনোবৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়; বরং আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতিতে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনানুষ্ঠানিক শব্দ।
কেন এমন সম্পর্কে জড়ান তরুণেরা?
মেবিলেশনশিপের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার গঠন, পারিবারিক চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কেউ হয়তো এখনই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়াতে চান না। আবার আগের সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।
কখনো দুজনের চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্যও সম্পর্কটিকে অনিশ্চিত করে তোলে। একজন হয়তো সম্পর্কের স্পষ্ট পরিচয় চান, অন্যজন আরও সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী। ফলে সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তব রূপ পায় না।
সিচুয়েশনশিপের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
মেবিলেশনশিপের সঙ্গে ‘সিচুয়েশনশিপ’ (Situationship)-এর মিল রয়েছে। সিচুয়েশনশিপে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সম্পর্কের পরিচয় ও প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট থাকে না। অন্যদিকে, মেবিলেশনশিপে ভবিষ্যতে সম্পর্কটি পূর্ণতা পেতে পারে—এমন সম্ভাবনা দেখানো হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায়। যেমন, কেউ বলতে পারেন, ‘এখন ক্যারিয়ারে মন দিতে চাই, পরে সম্পর্ক নিয়ে ভাবব।’
তবে ভবিষ্যতের এই আশ্বাস সব সময় বাস্তব প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয় না। কখনো পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যেতে পারে, আবার কখনো একজন অন্যজনকে অপেক্ষায় রেখেও সম্পর্কের দায় নিতে না চাইতে পারেন। তাই দুটি ধারণার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর সীমারেখা সব সময় স্পষ্ট নয়।
অনিশ্চয়তা কত দিন?
সম্পর্কের শুরুতে সিদ্ধান্ত নিতে সময় চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। একে অপরের স্বভাব, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বুঝতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে থাকলে এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্টতা না এলে তা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কে কী চান, সম্পর্ক নিয়ে প্রত্যাশা কী এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কতটা সময় প্রয়োজন—এসব বিষয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলা ভুল বোঝাবুঝি কমাতে পারে। একজনের সময় চাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি অন্যজনেরও অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
মেবিলেশনশিপের ধারণাটি মনে করিয়ে দেয়, ভালো লাগা আর প্রতিশ্রুতি এক বিষয় নয়। সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা অনিশ্চিত হতে পারে; তবে সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দুজনের অনুভূতি ও প্রত্যাশা সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।


