জামালপুর প্রতিনিধি: শরতের বাতাসে এখন শিউলি ফুলের সুবাস আর মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাকের বাদ্য। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জামালপুর জেলাজুড়ে বইছে আনন্দ আর উৎসবের বন্যা। তবে এই উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষের মনে থাকে পরম স্বস্তি ও নিরাপত্তা। আর সেই স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিতে এবং দুর্গাপূজার সার্বিক আনন্দকে নির্বিঘ্ন করতে জামালপুরের ২২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিশ্ছিদ্র চাদর বিছিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে এবার উৎসবের শুরু থেকেই বিজিবি সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছাকাছি থেকে কাজ করছে। জেলার প্রতিটি মণ্ডপে দর্শনার্থী ও পূজারীরা যাতে নির্ভয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে জামালপুরের ৩৫ বিজিবি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কর্মযজ্ঞ কেবল দাপ্তরিক নির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। খোদ জামালপুর ৩৫ বিজিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান (পিএসসি) সরাসরি মাঠে থেকে এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে শহরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির, ঠাকুরবাড়ি মন্দির, দুর্গাবাড়ী মন্দির ও ত্রিনয়নী মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শন করেছেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে তিনি পূজা উদযাপন কর্তৃপক্ষের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উৎসবের সময় যেকোনো গুজব বা অপ্রীতিকর ঘটনা মানুষের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। সেই আশঙ্কাকে দূর করতে মতবিনিময় সভায় বিজিবি অধিনায়ক অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও জোরালো ভাষায় আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, দুর্গোৎসবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৩৫ বিজিবি তাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
তবে বিজিবির দায়িত্বশীলতা কেবল শহরের মণ্ডপগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎসবের ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অনেক সময় অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি গভীরভাবে মাথায় রেখে ৩৫ বিজিবি তাদের নিয়মিত রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে সীমান্তেও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় যেন কোনোভাবেই মাদক ও চোরাচালান প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তাদের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একদিকে দেশের ভেতরে উৎসবের সুরক্ষা, অন্যদিকে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ- এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবিলা করছে বাহিনীটি।
সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সম্প্রীতি ও মিলনের প্ল্যাটফর্ম। আর এই সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে অটুট রাখতে ৩৫ বিজিবির আন্তরিক ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জামালপুরবাসীর মনে গভীর আস্থার জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অতন্দ্র প্রহরা প্রমাণ করে- উৎসব সবার, আর সেই উৎসবকে নিরাপদ রাখার দায়িত্বটি বিজিবি পালন করছে পরম মমতায় ও কঠোর পেশাদারিত্বে।


