নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত আট মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এসব চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) প্রতিবেদককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, নেত্রকোনায় তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সীমান্ত এলাকার দৈর্ঘ্য ৯২ কিলোমিটার। এতো বিশাল ও দুর্গম সীমান্ত পাহারার জন্য বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে ১৫টি। প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং যাতায়াতের উন্নত রাস্তাঘাট না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা অত্যন্ত কঠিন। তারপরও শত প্রতিকূলতা ও নানা সীমাবদ্ধতা জয় করে বিজিবি জোয়ানরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ ইন), অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ সীমান্ত সুরক্ষায় ৩১ বিজিবি সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারকারীরা প্রায়শই সীমান্তপথে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল, গাঁজা, গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাঁশ, কয়লা, চিপস, কেমিক্যাল, শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ নানা ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাচার করার চেষ্টা করে। তবে বিজিবির নিয়মিত ও ঝটিকা অভিযানের ফলে গত আট মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে- দুই হাজার ৯৮৬ বোতল বিদেশি মদ, ৬০ ক্যান বিয়ার, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৪৯ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং ৮৪ পিস ট্যাপেন্টাডল। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ টাকা।
এছাড়া জব্দকৃত অন্যান্য চোরাচালান পণ্য (গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাঁশ, কয়লা, চিপস, কেমিক্যাল, শাড়ি, লেহেঙ্গা ও প্রসাধনী সামগ্রী)-এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকা। সব মিলিয়ে গত আট মাসে জব্দকৃত মালামালের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকায়।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী আরও জানান, কেবল অভিযান পরিচালনা ও চোরাকারবারিদের আটকই নয়, সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয়দের মাঝে বিজিবির জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আগামীতেও সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


