নিজস্ব প্রতিবেদক: “বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সুন্দর করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, ব্যাগ, জুতো দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও অনেক স্কুলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না। চারতলা বা দোতলা সুন্দর ভবন আছে, কিন্তু ক্লাসরুমে মাত্র চার-পাঁচ জন শিক্ষার্থী- এমন চিত্রও আমরা দেখেছি, যা মেনে নেওয়া যায় না।”
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শামছুজ্জামান আসিফ।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে আরও বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নিজেদের সন্তানদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। একজন কোমলমতি শিক্ষার্থীর সারা জীবনের মানসিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ছাত্র-ভাইয়েরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, কলমাকান্দার চারজন মানুষ সেখানে রক্ত দিয়েছেন- তাদের সেই আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি পাওয়া এবং ভবিষ্যতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি মুনমুন জাহান লিজা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল আজম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী মালিহা মিলি এবং আবিদ হাসান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সুন্দর ও প্রাণবন্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের শুভকামনা জানানো হয়।


