স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
নদীর ন্যায্য পানির দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে ফারাক্কা লং মার্চের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ যশোর শাখার উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে যশোর শহরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রনেতা ও ফারাক্কা লং মার্চে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ভাসানী পরিষদ যশোর শাখার আহ্বায়ক হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা, যশোর শিল্পকলা একাডেমি-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ফারাক্কা লং মার্চে অংশগ্রহণকারী লেখক ও গবেষক মফিজুর রহমান রুন্নু, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যশোর জেলা সভাপতি রাশেদ খান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার পানি একতরফাভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নদী ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করেছে।
এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র পানিসংকট দেখা দেয়, কৃষিজমিতে সেচ ব্যাহত হয়, নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যায় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ করে বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বক্তারা আরও বলেন, পানি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় অস্তিত্ব, কৃষি, পরিবেশ ও সার্বভৌম স্বার্থের প্রশ্ন।
তাই পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক আইন ও সমতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনায় বক্তারা বিগত সরকারের সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তিরও সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন, এসব চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও স্বাধীন ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। দেশবিরোধী ও অসম সব চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চে অংশগ্রহণকারী অনেক প্রবীণ সংগ্রামী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, প্রকৌশলী রুহুল আমিন, শরিফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক হাসিনুর রহমান, কমিউনিস্ট লীগ নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, বাম নেতা কমরেড খবির শিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ আজও বাংলাদেশের জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর নেতৃত্বে সেই আন্দোলন প্রমাণ করেছিল—নদী রক্ষার সংগ্রাম মানেই দেশের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তারা দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


