মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ-তেতুলিয়া সড়কের শিবির বাজার এলাকায় বনবিভাগের আওতাধীন তিনটি আকাশী গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ এবং বনবিভাগকে অবহিত করার পর দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী বন বিভাগের গ্রাম্য সমিতির সদস্য আব্দুল হাইসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযুক্তরা হলেন- পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দেওলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের তিন ছেলে সাইকুল (৪০), তরিকুল (৩৮) ও রুবেল (৩৬)। বর্তমানে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ানোয় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছেন বন রক্ষা কমিটির সদস্যরা।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে মোহনগঞ্জ থেকে খুরশিমুল পাকা সড়কের দুই পাশে বন বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ আওতাধীন গ্রাম্য বৃক্ষরোপণ সমিতির সদস্যরা যত্নে আকাশী গাছ রোপণ করেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তারা গাছগুলো পাহারার মাধ্যমে বড় করে তোলেন। গত ২৩ এপ্রিল রাতের আঁধারে কারো অনুমতি ছাড়াই সড়কের ছোট পাইকুড়া এলাকায় সুকৌশলে তিনটি বড় আকাশী গাছ কেটে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাইকুল, তরিকুল ও রুবেল।
গাছ চুরির বিষয়টি টের পেয়ে গ্রাম্য বৃক্ষরোপণ সমিতির সদস্য আব্দুল হাই তাৎক্ষণিকভাবে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে কর্তনকৃত সরকারি গাছগুলো উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। তবে গাছ উদ্ধার হলেও রহস্যজনক কারণে ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অভিযোগটি এখনও মামলা (এফআইআর) হিসেবে রুজু করা হয়নি।
অভিযোগকারী আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গাছ কাটার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করছে। থানার অভিযোগটি তুলে নিয়ে বিষয়টি গোপনে মীমাংসা বা আপস করার জন্য তাকে নানামুখী হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আসামিদের আইনের আওতায় না আোনায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই চক্রটিকে এখনই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি না করলে সড়কের বাকি সরকারি গাছগুলোও তারা পর্যায়ক্রমে কেটে নিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে শনিবার (১৬ মে) জেলার আঞ্চলিক বন কর্মকর্তা জসিমউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্রুতই মামলা রেকর্ড করে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) দাপ্তরিকভাবে অনুরোধ করবেন।
অন্যদিকে, ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে কর্তনকৃত গাছগুলো উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রেখেছি। যেহেতু গাছগুলো বনবিভাগের সম্পদ, তাই বনবিভাগ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাইলেই দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হবে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”


