নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় পূর্ব কাকৈরগড়া গ্রামে মুসলিম এক তরুণীর বিয়ের দাবিতে হিন্দু যুবকের বাড়িতে অবস্থানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টিকটক থেকে শুরু হওয়া এই প্রণয় গড়িয়েছে দীর্ঘদিনের সহাবস্থান এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় ও সামাজিক জটিলতায়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজবাড়ী জেলার ধুলদী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিতু আক্তার নামের এক তরুণীর সাথে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব কাকৈরগড়া গ্রামের অন্ত চক্রবর্তীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ঢাকা ও সাভারে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করেন।
তরুণীর দাবি, অন্ত চক্রবর্তী তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মিতু আক্তারের ভাষ্যমতে, অন্ত জানতেন তিনি বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে, তবুও অন্ত তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের সাথে রাখেন। সম্প্রতি অন্ত তাকে না জানিয়ে গ্রামে চলে আসায় মিতু বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, অন্ত চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, টিকটকে পরিচয়ের সময় মিতু নিজেকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং তার নাম বলেছিলেন ‘মিতু রানী দাস’। অন্তের দাবি, মিতু বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে- এই সত্যটি গোপন করেছিলেন। মিতু মুসলিম এবং দুই সন্তানের জননী জানার পর অন্ত তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানী ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। সরকারি বিধিবিধান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। গ্রামবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি অবগত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “যেহেতু তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই আইনগতভাবে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। তবে সামাজিক বা ধর্মীয় কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সেদিকে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যদি তরুণী যে স্থানে ঘটনা ঘটেছে সংশ্লিষ্ট থানা লিখিত অভিযোগ করেন, তবে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই তরুণী অন্ত চক্রবর্তীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

