নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরের নালিতাবাড়ীর এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুয়া বিয়ে, একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেফতারকৃত যুবক হলেন- মো. আরিফ হোসেন আলতাফ (৩৭)। তার বাড়ি জামালপুর জেলায়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত আরিফ হোসেন দুজনেই ঢাকায় চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এই সুযোগ নিয়ে আরিফ ওই নারীকে নানা প্রলোভন দেখায়। পরবর্তীতে আরিফ তার চার-পাঁচ জন বন্ধুকে নিয়ে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করে।
বিয়ের পর স্বামী হিসেবে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে আরিফ তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, কৌশলে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সে।
বিয়ের কিছুদিন পর অভিযুক্ত আরিফের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন ভুক্তভোগী। সন্দেহ হওয়ায় তিনি আরিফের কাছে বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। কিন্তু আরিফ কাবিননামা না দেখিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে আরিফ জানায়, তাদের আদৌ কোনো বিয়ে হয়নি। এরপর কৌশলে ভুক্তভোগীকে তার বাবার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আরিফ।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে আদালতে ধর্ষণ ও পর্ণোগ্রাফি আইনে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ১৫ এপ্রিল নালিতাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪, সিপিসি-১ (জামালপুর) ক্যাম্প ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আসামিকে গ্রেফতারে তৎপর হয়। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাব-১৪ (জামালপুর) এবং র্যাব-১, সিপিসি-২ (উত্তরা) ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন আলতাফকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
