মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো: হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প পথ ঘোষণা ইরানের-
ইরান বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বিকল্প রুট ঘোষণা করেছে। প্রধান নৌপথে সমুদ্র মাইন থাকার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি বিবৃতিতে প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার বিকল্প পথের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্যারিস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
-লেবাননে হামলায় ‘ক্ষুব্ধ’ রেড ক্রস-
বুধবার লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রেড ক্রস।
লেবাননে সংস্থাটির প্রধান অ্যাগনেস ধুর বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ যুদ্ধবিরতির আশায় ছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী হামলার ঢেউ দেশকে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলায় ঠেলে দিয়েছে।’
-যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান মাখোঁর’-
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, সব সংঘাতপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে লেবাননে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে—এমন আশা তিনি ব্যক্ত করেছেন।
-বৈরুতে সবচেয়ে ভয়াবহ ইসরাইলি হামলা-
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবারের ইসরাইলি হামলায় ১৮২ জন নিহত ও ৮৯০ জন আহত হয়েছেন।
রাজধানী বৈরুত যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণের মুখে পড়ে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হিজবুল্লাহ সদস্যদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের পেজার বোমা অভিযানের পর এটিই সংগঠনটির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত।
-তেহরানে স্বস্তির নিঃশ্বাস-
যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তেহরানের অনেক বাসিন্দা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
৫০ বছর বয়সী গৃহিণী সাকিনেহ মোহাম্মাদি বলেন, ‘এখন সবাই স্বস্তিতে আছে। আমরা অনেকটা শান্ত।’ তিনি
দেশের প্রতি গর্বও প্রকাশ করেন।
-তেলের দাম কমায় শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন-
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেল-গ্যাসের দাম কমে যায়। একই সঙ্গে বিশ্ব শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায় ও ডলারের দর কমে।
ডাও জোন্স সূচক ২.৯ শতাংশ বেড়েছে। বহুল লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে আসে।
-লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের শর্ত-
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, ১০ দফা পরিকল্পনার একটি প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা।
লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ বৈরুতে, ইসরাইলের বড় ধরনের হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতের সংখ্যা ১৮২ ও আহত প্রায় ৯০০ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
-ইসলামাবাদে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল-
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শনিবার ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।
তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
হাঙ্গেরিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে না দিতে ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ রাখা চুক্তির অংশ ছিল না।
-লেবানন হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের ক্ষোভ-
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘লেবাননে আজকের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ ভয়াবহ। যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন ঘটনা বিশ্বাস করা কঠিন।’
-‘প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ’—নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু করতে তারা প্রস্তুত আছেন।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি। চুক্তির মাধ্যমে হোক বা পুনরায় যুদ্ধের মাধ্যমে—আমরা তা অর্জন করব।’
