জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর পৌর শহরে দীর্ঘ কয়েক বছরের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে চরম ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে শহরের বাইপাস এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন চার এলাকার কয়েকশ’ মানুষ। এতে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
অবরোধে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, এটি কোনো সাময়িক সমস্যা নয়। গত ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে চার এলাকার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় প্রায় পাঁচশো একর ফসলি জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ধানি জমি অনেক আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পানি ঘরে ঢুকে যাচ্ছে, মসজিদে ঢুকে যাচ্ছে। নোংরা ও বিষাক্ত পানিতে বিষাক্ত সাপ ঘরের ভেতর চলে আসছে, মানুষকে কামড়াচ্ছে। আমরা এখন পুরোপুরি নিরুপায়। ঘরে বসে মরার চেয়ে রাস্তায় এসে মরা অনেক ভালো। আমরা পৌরসভার কাছে, প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েছি। ওনারা খালি বারবার শুধু মুখের আশ্বাস দিয়েছেন, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
তারা অনতিবিলম্বে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চেয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জামালপুর সদর থানা পুলিশ এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল। পরে জামালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে এসে স্থায়ী সমাধানের জোরালো আশ্বাস দিলে দুপুর দেড়টার দিকে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন। অবরোধ প্রত্যাহারের পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সোহেল মিয়া বলেন, “এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতোমধ্যে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”
অন্যদিকে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বুঝিয়ে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলিয়ে দিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত আছে।”
দীর্ঘ দুই দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের পর পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া নতুন আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় চার এলাকার ভুক্তভোগী হাজারো মানুষ।


