জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বহুল আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও ধর্ষক সোহেল রানাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।
রবিবার (২৪ মে) সকালে জামালপুরের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘প্রাইম ল্যাব স্কুল এন্ড কলেজ’ এর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অংশ নেন। এ সময় এক অভিনব ও নীরব প্রতিবাদ হিসেবে শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রামিসা হত্যার তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে এবং খুনিদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, প্রাইম ল্যাব স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রাজন।
তিনি বলেন, “রামিসার মতো কোমলমতি শিশুকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা ও প্রেষণ করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীর এমন শাস্তি চাই যা ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস কাউকে না দেয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম নাসিব (রিকো) তার বক্তব্যে বলেন, “আইনি জটিলতার অজুহাতে যেন জঘন্য এই অপরাধের বিচার ঝুলে না থাকে। সোহেল রানার মতো নরপশুদের দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের পক্ষে তীব্র ক্ষোভ ও আবেগঘন বক্তব্য রাখে শিক্ষার্থী দিব্য ও ফাতিহা ওয়াসীনাত। তারা বলে, “আমরা একটি নিরাপদ সমাজ ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন চাই। রামিসা আপুর হত্যাকারী সোহেল রানার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।”
অভিভাবকদের পক্ষে মো. রাসেল এবং শর্মী চৌধুরী তুলি তাদের বক্তব্যে বলেন, সন্তানদের ঘর থেকে বের করে আজ মায়েরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু ও নারী ধর্ষণকারীদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড, এবং তা হতে হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে।
কর্মসূচি চলাকালীন দেখা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের অনেকের মুখেই বাঁধা ছিল কালো কাপড়, যা সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে নীরব, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।
প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল “রামিসার খুনির ফাঁসি চাই”, “!ধর্ষকের কোনো ক্ষমা নেই”, “নিরাপদ বাংলাদেশ চাই”।
অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।


