বুকে ব্যথা নিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন জোসনা আরা নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তবে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
মৃত জোসনা আরা (৬৫) পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এবং মিঠাপুর বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, জোসনা আরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসার সময়ে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে সেখানে দায়িত্বরত একজন সহকারী জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসারকে ফোন দেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট অতিবাহিত হয়।
এসময় তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকজন এসে দ্রুত স্যালাইন, ইনজেকশন দেওয়া শুরু করে। এর কিছু পরেই জোসনা আরা মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছিলেন ডা. সুমাইয়া তৃষা। তিনি দুপুরের খাবারের জন্য বাহিরে অবস্থান করছিলেন।
পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ওই রোগীকে দেখেন।
নিহতের মেয়ের জামাই হোসেন আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার শাশুড়ি বুকে ব্যথা নিয়ে আক্কেলপুর হাসপাতালে এসেছিলেন। তখন তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সময়মতো না আসায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। চিকিৎসক হাসপাতালে না থাকার ভিডিও আমার কাছে আছে।
জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া তৃষা বলেন, দুপুরের খাবারের জন্য আমি বাহিরে ছিলাম। জরুরি বিভাগের স্যাকমোর (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার) ফোন পেয়ে দ্রুত এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। সেই সময় জরুরি বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ নিজেই দায়িত্বে ছিলেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় এক রোগী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে হইচই করছিল বলে হাসপাতাল থেকে খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমি নিজে গিয়ে রোগীটিকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। নিহতের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
