নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোনা সীমান্তে চোরাকারবারিদের আনাগোনা কিছুটা বেড়েছে। তবে তাদের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিনিদ্র রাত জাগছেন ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি’র টানা কয়েকটি সাঁড়াশি অভিযানে জব্দ করা হয়েছে নয় লক্ষাধিক টাকারও বেশি ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদকদ্রব্য।
বৃহস্পতিবার পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)।
বিজিবি’র দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জব্দকৃত মালামালের তালিকায় যেমন রয়েছে শীতের কম্বল ও বিদেশি মদ, তেমনি রয়েছে দামি পার্সিমন ফল, কমলা, চিনি, কসমেটিকস ও কয়লার মতো পণ্য। একদিনের ব্যবধানে পৃথক নয়টি অভিযানে নয় লাখ ১৫ হাজার ১৬০ টাকা মূল্যের এসব চোরাই সামগ্রী আটক করতে সক্ষম হয়েছেন বিজিবি’র টহল দলের সদস্যরা।
সীমান্তের চোরাচালান প্রতিরোধে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি’র বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট) সমন্বিত অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
সবচেয়ে বড় চালানটি ধরা পড়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। পাঁচগাঁও বিওপি’র একটি টহল দল ১১৮২ নম্বর মেইন পিলারের কাছে পাগলামোড় নামক স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫৭৪ কেজি ভারতীয় পার্সিমন ফল জব্দ করে, যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। একই রাতে মহেষখোলা বিওপি’র সদস্যরা রামনাথপুর এলাকা থেকে ৫২০ কেজি ভারতীয় কয়লা (মূল্য ১০,৪০০ টাকা) জব্দ করেন।
এর আগে বুধবার দিনভর লেংগুড়া ও বিজয়পুর বিওপি’র টহল দল কাঠালবাড়ী, চিকনী এবং পশ্চিম বিজয়পুর এলাকায় পৃথক চারটি অভিযান চালায়। এসব অভিযানে ৯৬ কেজি চিনি, ৭৫ কেজি ফুচকা, ৮৬৮ পিস কসমেটিকস, ৬২ পিস হরলিক্স এবং ২৩৭ কেজি ভারতীয় কমলা জব্দ করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর থেকে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে বিজিবি। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিপাড়া বিওপি’র সদস্যরা কড়াইগড়া এলাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৬০ বোতল ভারতীয় মদ আটক করেন। এরপর সকাল ৭টা ও সাড়ে ৭টার দিকে লেংগুড়া এবং নলুয়াপাড়া বিওপি’র টহল দল পৃথক অভিযানে কাঠালবাড়ী ও বাদামবাড়ী এলাকা থেকে ২২ পিস ভারতীয় কম্বল জব্দ করে, যার মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা।
প্রতিটি অভিযানেই চোরাকারবারিরা বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়।
৩১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও মাদকপাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত ৬০ বোতল ভারতীয় মদ ধ্বংস ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া কম্বল, ফল, কয়লা, কসমেটিকসসহ অন্যান্য চোরাই পণ্য নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ বিজিবি’র ধারাবাহিক ও সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষিত থাকবে এবং মাদক ও চোরাচালানের মতো ব্যাধি সমাজ থেকে নির্মূল হবে।


