নিজস্ব প্রতিবেদক: দুপুরের রোদ তখন কিছুটা হেলে পড়েছে। গ্রামের আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই শান্ত ছিল চারপাশ। মুহূর্তের মধ্যেই সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে খানখান হয়ে গেল স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে। বাড়ির পাশের চিরচেনা পুকুরটি যে দুই অবুঝ শিশুর প্রাণ কেড়ে নেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার দুই নম্বর বড়তলী-বানিহারী ইউনিয়নের উলুকান্দা গ্রামে ঘটেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পানিতে ডুবে অকালে ঝরে গেছে দুটি ফুটফুটে প্রাণ।
নিহত দুই শিশু হলো- উপজেলার উলুকান্দা গ্রামের বেপারী বাড়ির আল মামুন মিয়ার আট বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল এবং একই বাড়ির ফারুক মিয়ার সাত বছর বয়সী মেয়ে মিহি। তারা দুজনেই ছিল স্থানীয় মারকাজুল উলুম উলুকান্দা মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একসঙ্গে পড়াশোনা আর খেলাধুলায় মেতে থাকা এই দুই শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের গাঢ় ছায়া।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে শিশু দুটি বাড়ির আঙিনাতেই ছিল। হঠাৎ তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজনের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়। শুরু হয় চারদিকে খোঁজাখুঁজি। আশপাশের বাড়ি, রাস্তা- কোথাও তাদের না পেয়ে একপর্যায়ে স্বজনরা বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়েই তারা দেখতে পান এক বুকভাঙা দৃশ্য। পুকুরের পানিতে নিথর অবস্থায় ভাসছে জান্নাতুল ও মিহি।
দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছিল।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যায় পুলিশ। এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায়। আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
একই বাড়ির দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে উলুকান্দা গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে আঙিনায় কয়েক ঘণ্টা আগেও শিশু দুটির হাসিখুশি পদচারণা ছিল, সেখানে এখন এক নিদারুণ শূন্যতা। এই শোক যেন কোনো সান্ত্বনার ভাষায় কমানোর নয়। গ্রামীণ জনপদে শিশুদের জলাশয়ের আশপাশে একা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এ ঘটনাটি আবারও এক করুণ সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।


