শুক্রবার, অক্টোবর ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | The Mail BD

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তাঁর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। খবর রয়টার্স ও নোবেল কমিটির।

৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান দিক হলো আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। Reuters

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিল্লাই বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আইন পেশায় যুক্ত হন। বর্ণবাদী শাসনামলে বৈষম্যের শিকার মানুষ ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মীদের পক্ষে কাজ করে তিনি নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দেশটির বিচারব্যবস্থায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যৌন সহিংসতা এবং গণহত্যায় উসকানির মতো অপরাধের বিচারিক স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ছিলেন

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য এবং সংঘাতের শিকার মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন তিনি। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইসরায়েল অবশ্য ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমানে নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন?

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক চাপ ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন তাঁর কর্মজীবন আইনের শাসন ও জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরে।

নোবেল কমিটির মতে, শক্তিশালী রাষ্ট্র বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ইচ্ছার পরিবর্তে আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিরোধ মোকাবিলা করা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি পেলেন নাভি পিল্লাই। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version