বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮

রুহুল আমিন, ডিমলা (নীলফামারী)

ঢাকের বাদ্য, প্রতিমার সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজে মুখর হওয়ার অপেক্ষায় নীলফামারীর ডিমলা। তবে আনন্দের এই আয়োজন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ম্লান না হয়, সে জন্য আগেভাগেই নিরাপত্তার ছক কষছে উপজেলা প্রশাসন। এবার উপজেলার ৭৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা ঘিরে সিসি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান।

এবার ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৭৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং রাত ১২টার পরও স্বেচ্ছাসেবক রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক বহির্গমন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

প্রস্তুতিমূলক সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিজিবি ও এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ট্যাগ কর্মকর্তার মাধ্যমে মণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে থাকবে মনিটরিং সেল।

পূজা ঘিরে দ্রুত যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের জন্য ‘দুর্গাপূজা পরিচালনা টিম-২০২৬’ নামে একটি WhatsApp গ্রুপও খোলা হয়েছে। কোনো মণ্ডপে সমস্যা, অভিযোগ বা অসুবিধা দেখা দিলে সেখানে তথ্য জানানো যাবে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

তিনি বলেন, মণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের চলাচলের বিষয়েও আয়োজকদের সতর্ক থাকতে হবে। উৎসবের আনন্দ যেন সবার জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে বিষয়েই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য এবার ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, গত বছর প্রতিটি মণ্ডপে চালের বরাদ্দ ছিল ৫০০ কেজি। এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।

সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যাপক সেতারা সুলতানা, ডিমলা থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা মুজিবর রহমান, সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান বকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক উৎপলকান্তি সিংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version